বেজিং: ভারতের নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্যপদের আবেদন ও রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানে আশ্রয় পাওয়া জঈশ-ই-মহম্মদ প্রধান সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার ইস্যুতে তাদের ঘোষিত অবস্থানে কোনও বদল হয়নি বলে জানাল চিন। ফলে এ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।


গত সপ্তাহে ভারতের বিদেশ সচিব এস জয়শংকর নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন থিঙ্কট্যাঙ্ক-এর এক আলোচনায় বলেন, অসামরিক পরমাণু প্রযুক্তি সংগ্রহে ভারতের উদ্যোগে চিন যেন রাজনৈতিক রং না লাগায়। মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষণায় ভারতের প্রয়াসে চিনের বাধাদানে ইঙ্গিত করেও তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, কেন ভারত-চিন, দুটি দেশ বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে 'মৌলবাদী সন্ত্রাস'-এর বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে না!
আজ বিদেশ সচিবের ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গেং শুয়াং সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ভারতের এনএসজি-তে ঢোকার আবেদন ও ১২৬৭ প্রস্তাব অনুসারে তালিকাভুক্তি (আজহারকে সন্ত্রাসবাদী তালিকায় ফেলা) নিয়ে চিনের অবস্থান একই আছে, বদলায়নি।


প্রসঙ্গত, আজহারকে রাষ্ট্রপুঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার 'টেকনিক্যাল কারণ' দেখিয়ে চিন যে বাধা দিয়েছে, তার মেয়াদ শীঘ্রই শেষ হচ্ছে। এনএসজি ও আজহার- দুটি বিষয়েই দু দেশের কথাবার্তা চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই এ কথা বলেন চিনা মুখপাত্রটি।


রাষ্ট্রপুঞ্জের ১২৬্৭ কমিটিতে অন্য সদস্য দেশগুলি ভারতের দাবি সমর্থন করলেও চিন ভেটো দেওয়ার ক্ষমতার জোরে দু বার তা আটকে দিয়েছে।


চিনের উচিত ভারতের ন্যায্য দাবি, চাহিদাকে সম্মান করা, জয়শংকরের এই মত প্রসঙ্গে গেং বলেন, বৃহত্ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে দুজনেই প্রতিটি ইস্যুতে পরস্পরের বিরোধিতা করবে না, এটাই কাম্য।  গেংয়ের কথায়, চিন ও ভারতের লাগাতার প্রয়াসের ফলেই দু পক্ষের কৌশলগত সহযোগিতা সার্বিক অগ্রগতির পথে এগিয়েছে। দু পক্ষ সহযোগিতার পথে আরও মসৃণ কৌশলগত বোঝাপড়া তৈরির দিকে এগিয়ে চলেছে। চিনপারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রসারিত করার পাশাপাশি দুদেশের নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া সহমতের ভিত্তিতে মতপার্থক্য দূর করতে চায় বলে জানান তিনি।