আমদাবাদ: ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরের আইনি লড়াই। এত বছর পর শেষ পর্যন্ত যাও বা অব্যাহতি মিলেছিল আদালত থেকে, কিন্তু স্বস্তির জীবনে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে চিরনিদ্রায় চলে গেলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। (RS 20 Bribe Case)
গুজরাতের আমদাবাদ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। বুধবার তাঁকে অব্যাহতি দেয় গুজরাত হাইকোর্ট। আর বৃহস্পতিবার সকালেই মারা যান তিনি। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত তাঁর পরিবার থেকে আত্মীয়স্বজনরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যখন প্রাণ খুলে বাঁচার সময় এল, সেই সময় তাঁর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই। (Viral News)
এই মামলার সূচনা ১৯৯৬ সালের ২০ নভেম্বর। পুলিশ ঘুষ নিচ্ছে বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল দুর্নীতিদম বিভাগের কাছে। সেই মতো ফাঁদ পাতা হয়েছিল। বেআইনি ভাবে শহরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে, প্রত্যেক ট্রাকের কাছ থেকে ২০ টাকা করে তোলার অভিযোগ জমা পড়ে তিন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।
বাবুভাইয়ের পাশাপাশি, সেবনকুমার রথওয়া এবং নাসরুল্লা খানের বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। ২০০৪ সালে ওই তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করে দায়রা আদালত। চাকরি চলে যায় তাঁদের। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কিন্তু নয় নয় করে দু’দশক কেটে যায় সেই মামলায়। কোনও না কোনও কারণে শুনানি আটকে যায় বার বার।
শেষ পর্যন্ত গত বুধবার বিচারপতি এসভি পিন্টো তিন কনস্টেবলকেই বেকসুর খালাস করেন। ৩০ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর রেহাই পান বাবুলাল ও তাঁর একসময়ের সতীর্থরা। দীর্ঘ আইনি লড়াই চলাকালীন আমদাবাদ থেকে পটনে নিজের গ্রামে ফিরে যান বাবুভাই। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের রায় শুনে নিজের আইনজীবী নিতিন গাঁধীর কাছে ছুটে যান। তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এর পরই বাবুলাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানা গিয়েছে।
নিতিন জানিয়েছেন, ২০০৪ সালেই চাকরি চলে যায়। টাকাপয়সা কী ভাবে উদ্ধার করা যায়, সেই নিয়ে বাবুলালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। বাবুলাল আর আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। ভাইপোর বাড়িতে ছিলেন রাতে। শুক্রবার সকালে দেখা যায়, ঘুমের মধ্যে মারা গিয়েছেন তিনি। মামলা যখন শুরু হয়, সেই সময় তরুণ তুর্কি ছিলেন বাবুভাই। মামলার নিষ্পত্তি যখন হল, তাঁর বয়স ৬৪-তে এসে ঠেকেছিল।
