একজন সরকারি কর্মীর মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা। অথচ তিনি থাকেন একটি ৩৩০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল বাংলোয়, কেনা আছে আরও ৪৪টা ফ্ল্যাট। এমনকী তাঁর বাড়িতে গচ্ছিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি টাকা নগদ আর ২৫০ গ্রাম সোনা ! শুনেই অবাক হলেন ? মাত্র ৫০ হাজার টাকা বেতনে এত বিপুল সম্পদ কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব ? আদৌ কি সৎ উপায়ে তা সম্ভব কোনও দিন ? এই সম্পত্তির হদিশ সমাজমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। হাজারও প্রশ্ন উঠছে এই সম্পদকে ঘিরে।

এই সরকারি কর্মী আদপে একজন মোটর ভেহিকল ইনস্পেক্টর যার নিজের নামে কেনা রয়েছে ৪৪টি প্লট, তিনি নিজে ৩৩০০ বর্গফুটের একটি প্রাসাদে থাকেন আর তাঁর সঞ্চয়ে রয়েছে ১ কোটি টাকা নগদ আর ২৫০ গ্রাম সোনা। এই সরকারি কর্মীর বিষয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে এক্স হ্যান্ডলে। পরে এই একই পোস্ট রিস্ক কনসালট্যান্ট পার্থ সাংভি লিঙ্কডইনে পোস্ট করেন। এই পোস্টের সঙ্গে ক্যাপশনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এই কারণেই কি সরকারি চাকরির এত চাহিদা সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ? একজন মোটর ভেহিকল ইনস্পেক্টর যার বেতন মাসে ৫০ হাজার টাকা, তাঁর নাকি ৪৪টা প্লট রয়েছে, সে থাকে ৩৩০০ বর্গফুটের প্রাসাদে, ২৫০ গ্রাম সোনা রয়েছে তাঁর কাছে আর ১ কোটি টাকা নগদও রয়েছে !’

পার্থ সাংভি নামের এই ব্যক্তি আরও বলেন যে ‘এটি কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির কথা নয়, এটি পুরো সিস্টেম ও নাগরিকদের কথা যারা কাজ করে দেওয়ার জন্য ঘুষ দিয়ে এই সিস্টেম চালু রেখেছে বছরের পর বছর ধরে। এটা যদি একজন মিড-লেভেল অফিসারের সম্পদের নমুনা হয়ে থাকে, তাহলে সিনিয়রেরা কীসের উপরে বসে আছেন ? বেতন তো কেবলমাত্র দেখানোর জন্য। আসল টাকা আসে সিস্টেম থেকে যা দেয় সাধারণ নাগরিকরা, বাবুদের জমানা এটা, যারা এই গেম খেলে না, তাদের মূল্য চোকাতে হয়’।

এই পোস্টটি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, দুর্নীতি কোন পর্যায়ে চলে যায় ভারতে তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই সরকারি কর্মীর সম্পদ, এমনটাই মনে করছেন নেটিজেনরা। একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এটি একজন ব্যক্তির সম্পর্কে কম, সিস্টেমের অপব্যবহার সম্পর্কে বেশি তথ্য দেয়। অবশ্যই সকলে একই রকম নন, অনেকেই সততার সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু এই ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।’ অন্য আরেক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘শিকড়ে প্রোথিত দুর্নীতির বীজ ভারতের সত্যিকারের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।’ আবার অন্য এক ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা কঠোর পরিশ্রম করি, অর্থ উপার্জন করি আর ট্যাক্সের টাকা দিই শুধুমাত্র সেই সমস্ত দুর্নীতি পরায়ণ লোকের পকেট ভরানোর জন্য !’