কলকাতা: ইন্দোর শহরকে ‘ভিখারিমুক্ত’ করার অভিযানে নেমে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। ভিক্ষা করে দিন গুজরান যিনি করছিলেন এক ভিখারি। অথচ বাস্তবে তিনি কোটিপতি। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরকে ভিখারি-মুক্ত করার সরকারি অভিযানে উঠে এল এমনই এক চাঞ্চল্যকর সত্য।
রাজ্য সরকারের ‘বেগার-ফ্রি ইন্দোর’ অভিযানের লক্ষ্য ভিক্ষার উপর নির্ভরশীল মানুষদের পুনর্বাসন। ইন্দোরে চলা ভিখারি উচ্ছেদ অভিযানে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তাঁদের অনেককেই কাজ, আশ্রয় এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই অভিযানের সময়ই মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের কর্মীরা সারাফা বাজার এলাকায় শনাক্ত করেন মাঙ্গিলাল নামে এক ব্যক্তিকে। বাড়ি, গাড়ি, টাকা – কী নেই তাঁর! তা সত্ত্বেও অন্যের কাছে হাত পাতা ছাড়েননি তিনি।
জানা গিয়েছে, তাঁর নামে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে ভগত সিং নগর, শিবনগর এবং আলওয়াস এলাকায় একটি করে বাড়ি, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। অথচ সরকারি উদ্যোগে তিনি একটি পাকাবাড়ি পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়েননি।
দু'হাতে জুতো পরে একটি চাকা লাগানো লোহার পাতের গাড়িতে যাতায়াত করেন। তাঁর এই করুণ অবস্থা দেখে ভিক্ষে দেয় সাধারণ মানুষ। এভাবেই দিনের পর দিন মানুষের সহানুভূতি কুড়িয়ে আজ কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন মাঙ্গিলাল।
মাঙ্গিলালের একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়িও রয়েছে। সেই গাড়ি চালানোর জন্য মাসিক ১২ হাজার টাকায় মাইনে করা চালকও রয়েছে। এছাড়াও তিনটি অটো আছে মাঙ্গিলালের। যেগুলিকে ভাড়ায় খাটান তিনি। এমনকী সুদে টাকা ধার দেন ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের সুদখোরি বেআইনি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সবচেয়ে বিতর্কের জায়গা - নিজের নামে বিপুল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) আওতায় একটি এক বেডরুমের বাড়িও পেয়েছেন। কীভাবে এই সরকারি সুবিধা তাঁর হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে।