টোকিও: মহাপ্রলয় কি আসন্ন ? জাপানি বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণীতে ছিল ৫ জুলাইয়ের মহাপ্রলয়ের কথা। এ কি তারই ইঙ্গিত ? আগেই জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছে। ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে জাপানের (Japan Volcano Eruption) একটি দ্বীপে, এবার হল ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাত। ৭ বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিল এই আগ্নেয়গিরি। আর গত বুধবার তা অগ্ন্যুৎপাত শুরু করেছে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। জাপানের কিউশু দ্বীপের কিরিশিমা পর্বতমালার অন্তর্গত মাউন্ট শিনমোয়েডেকে শুরু হয়েছে অগ্ন্যুৎপাত। আকাশ (Baba Vanga Prediction) ঢেকে গিয়েছে ব্যাপক পুঞ্জীভূত ধোঁয়ায়।

স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটের সময় এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাপানের মেটেরিওলজিক্যাল এজেন্সির পক্ষ থেকে ত্রিস্তরীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগাম সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের যে এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে জ্বলন্ত প্রস্তরখণ্ড উপর থেকে এসে পড়তে পারে, আগ্নেয়গিরির চারপাশে ২ মাইল এলাকা পর্যন্ত পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্ট অনুসারে মাউন্ট শিনমোয়েডেক থেকে হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের কারণে মিয়াজাকি এবং কাগোশিমা প্রফেকচারের কিছু অংশ ঘন ছাই আর ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। জাপানি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে, এমনকী পাহাড়ের কাছাকাছি না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বৃহস্পতিবার টোকারা দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করার পরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে এই ঘটনা।

 

আর এই দুই ঘটনাতেই জাপানি বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে অনেকের মনে। জাপানের বিখ্যাত মাঙ্গা শিল্পী রিও তাতসুকি তাঁর বই 'দ্য ফিউচার আই স'তে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই তারিখে এক পৃথিবীর বুকে এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর ভবিষ্যৎবাণী। যদিও শিল্পী তাঁর এই ভবিষ্যৎবাণীকে বারবার পড়ে বিশ্বাস করে নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। এই পূর্বাভাস সমাজমাধ্যমে আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল, এর ফলে জাপানে বিমানের টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে হঠাৎ চাহিদায় ব্যাপক পতন এসেছে।

সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে

জেমএ ইতিমধ্যেই আগ্নেয়গিরির ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপের লক্ষণ শনাক্ত করেছে এবং অগ্ন্যুৎপাতের প্রায় এক সপ্তাহ আগে ২৭ জুন ত্রিস্তরীয় সতর্কতা জারি করেছে। রিপোর্ট অনুসারে অগ্ন্যুৎপাতের ঠিক একদিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি আগ্নেয়গিরি গবেষণা কমিটির সভায় বিজ্ঞানীরা পাহাড়ের নিচে ফুলে ওঠা এবং আগ্নেয়গিরির গ্যাস নির্গমনের লক্ষ্য করেছিলেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ম্যাগমা অগ্ন্যুৎপাতের হুমকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।