নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘বিশেষ’ মিড ডে মিলের আয়োজন। কিন্তু থালাবাটি বা কাগজের প্লেটও জুটল না। মেঝের উপর ছেঁড়া কাগজে খেতে দেওয়া হল পড়ুয়াদের। মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্কুলে এমনই কাণ্ড ঘটল। সেই ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে একহাত নিয়েছে কংগ্রেসও। (Midday Meal on Notebook Pages)

Continues below advertisement

মধ্যপ্রদেশের মইহারের ভটগওয়ান সরকারি হাই স্কুল থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যেখানে মেঝেতে বসে কাগজে রাখা খাবার খেতে দেখা গিয়েছে পড়ুয়াদের। পুরনো খাতার পাতা ছিঁড়েই পড়ুয়াদের খেতে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। (Madhya Pradesh News)

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কনকনে ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচেই খেতে বসানো হয় পড়ুয়াদের। মেঝের উপর খাতার পাতা ছিঁড়ে রাখা হয়। পেনের কালিতে লেখা ওই পাতার উপরই লুচি ও সুজির হালুয়া দেওয়া হয়। সেই মতোই খেতে শুরু করে পড়ুয়ারা। 

Continues below advertisement

এই গোটা ঘটনায় ফের একবার মিডডে মিল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের প্রতি রুচিহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পেনের কালিতে লেখা রয়েছে যে কাগজে, তার উপর কেন খাবার দেওয়া হল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। পেনের কালিতে বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। খাবারের সঙ্গে তা পেটে গেলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনের কালির ক্ষতিকরল রাসায়নিক পেটে গেলে, নানা সমস্যা হতে পারে। হজমের সমস্যা তো বটেই, দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও রয়েছে যায়, যার মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকিও।

বিষয়টি সামনে আসতে সাতনার DPC জানান, স্কুলের অধ্যক্ষ সুনীল কুমার ত্রিপাঠীই তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। ব্লক রিসোর্স সেন্টার কোঅর্ডিনেটরের ঘাড়েও দায় বর্তায়। ২৬ জানুয়ারির দিন পড়ুয়াদের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।

কিন্তু এতেই বরফ গলছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা শুধুমাত্র অব্যবস্থা হতে পারে না। শিশুদের জীবনের প্রশ্ন জড়িয়ে এর সঙ্গে। মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় সরকার বাসন কেনার টাকা দেয়। তার পরও কেন খাতার পাতায় খেতে হবে পড়ুয়াদের, প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। স্থানীয় মানুষজনও ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁরা দরিদ্র বলেই, তাঁদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন। 

মধ্যপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি জিতু পটওয়ারি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, "সরকার রাবরি, মালাই গিলছে। আর পড়ুয়াদের থালার টাকা নিয়ে দুর্নীতি করছে। মধ্যপ্রদেশের নিষ্পাপ শিশুদের আর কত লজ্জায় পড়তে হবে, আর কত অপমানিত হতে হবে'।

তবে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল না মধ্যপ্রদেশে। এর আগে শেওপুরের সরকারি স্কুলে গত বছর নভেম্বর মাসেই কাগজ পেতে খেতে দেওয়া হয় শিশুদের। একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তরফে আয়োজন করা হলেও, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।