কলকাতা: পরিবার তো নয় যেন সাম্রাজ্য! একটি গ্রামে গোটা পরিবারই তাঁর। বহু বিবাহ তো করেছেনই, তবে দুটি বা চারটি নয় ২০টি বিয়ে করেছেন তিনি। এর মধ্যে ৪ জন স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং তবে তাঁর সঙ্গে ঘর করছেন ১৬ জন। সবাই একই সঙ্গে থাকেন। তবে এই কাজ তিনি করেছেন তাঁর বাবার অনুরোধেই, এমনটাই জানিয়েছেন কাপিঙ্গা। তিনি আফ্রিকার তানজানিয়ার বাসিন্দা।
বর্তমানে মেজি আর্নেস্তো মুইনুচি কাপিঙ্গার গল্প ভাইরাল হয়েছে। তাঁর জীবনের গল্প প্রকাশিত হয়েছে 'পালস আফ্রিকা' সংবাদমাধ্যমে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের ছোট্ট বংশকে বৃদ্ধি করতে উৎসাহিত করেছিলেন তাঁর বাবা। সেই সময় তিনিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে এবং তার উত্তরাধিকার গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ১৯৬২ সালে তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়, এরপর ধীরে ধীরে পরিবারকে আরও বৃদ্ধি করতে বদ্ধপরিকর হন তিনি।
আফ্রিম্যাক্সের সঙ্গে একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে কাপিঙ্গা বলেন, ১৯৬১ সালে আমার প্রথম বিয়ে হয়। আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন যে একজন স্ত্রীই যথেষ্ট নয়। সেই সময়ই তিনি আমার পাঁচ স্ত্রী-কে দেওয়ার জন্য উপহারও দিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে এত বড় পরিবার চালানোও মুখের কথা নয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের ফসল চাষ এবং পশুপালনের কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন। ভুট্টা, শিম, কাসাভা এবং কলা সহ বিভিন্ন ধরণের প্রধান খাদ্য উৎপাদিত হয়, সেগুলি বিক্রি করে যা টাকা আসে হাতে সেই দিয়েই এই বৃহৎ সংসার চলে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হিসেব মতো এই বড় পরিবারের মাথা হলেন কাপিঙ্গা, যদিও তিনি বলেছেন, "মানুষ মনে করে আমি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করি। কিন্তু সত্য হলো নারীরাই এই পরিবারকে একত্রিত রাখে, আমি কেবল তাদের পথ দেখানোর জন্য এখানে আছি"। তবে ১৬ জন স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতে ঝগড়া হলেও সমাধানেরও চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। সমস্যাগুলি খোলামেলাভাবে আলোচনা করাকে প্রাদান্য দিয়েছেন তিনি। যখন সমস্যা দেখা দেয়, তখন স্ত্রী- রা প্রথমে নিজেদের মধ্যে সমাধান করার চেষ্টা করেন। প্রয়োজনে, তারা কাপিঙ্গার পরামর্শও নেন বলে সংবাদমাধ্যমকে দোয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।
তবে কাপিঙ্গা জানিয়েছেন সব সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের নাম মনে রাখতে তার অনেক কষ্ট হয়। যদিও তিনি প্রায় ৫০টি নাম মনে রাখতে পারেন, বাকিদের মুখ মনে রাখার চেষ্টা করেন। যদিও ৪০-এর বেশি সন্তানকা হারিয়েছেন তিনি। কিছু অসুস্থতার কারণে, কিছু দুর্ঘটনায়। ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তার বিশাল পরিবারকে ঘিরে সন্তুষ্ট, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে