নয়াদিল্লি: প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত ছিলেন সকলেই। ভারাক্রান্ত মন নিয়েই শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন পরিবার, আত্মীয়-পরিজনরা। কিন্তু সেই শেষকৃত্য ঘিরে যে হুলস্থুল কাণ্ড বাঁধবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। কারণ কফিনে বন্দি দেহতে আচমকাই প্রাণ সঞ্চারিত হল। মারা গিয়েও বেঁচে উঠলেন এক বৃদ্ধা। (Viral News)
তাইল্যান্ডের ফিতসানুলো থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। গত দু’বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন ৬৫ বছর বয়সি Chonthirot. ২৩ নভেম্বর সকালে নড়তে চড়তে না দেখে, কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তাঁকে মৃত বলে ধরে নেন সকলে। শোকের আবহেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বাড়িতে। (Thailand Woman Wakes up in Coffin)
সাদা রংয়ের একটি কফিনে শোয়ানো হয় Chonthirot-কে। বাড়ি থেকে ২২৫ মাইল দূরে অবস্থিত, ব্যাঙ্ককের কাছে একটি মন্দিরেই শেষকৃত্য সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ দরিদ্র পরিবারগুলি সেখানে বিনামূল্যে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু তার পর যা ঘটে, তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না।
জানা গিয়েছে, শেষকৃত্য শুরু হওয়ার ঠিক আগে হঠাৎই কফিনের মধ্যে থেকে আঙুলের টোকার শব্দ কানে আসে সকলের। এমন ঘটনায় সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত কফিনের ঢাকনা তুলতে দেখা যায়, থর থর করে কাঁপছেন Chonthirot, মুখের উপর বসা মাছি তাড়াচ্ছেন।
ওই মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও, যা দেখে শিউরে উঠছেন সকলে। বৃদ্ধার ভাই Mongkol জানিয়েছেন, দিদির মৃত্যুর নথিপত্র পর্যন্ত বের করে নিয়েছিলেন তাঁরা। তার পর হঠাৎই বেঁচে ওঠেন দিদি। এভাবে দিদির ফিরে আসায় আনন্দিত তাঁরা। কিন্তু ঘটনার কথা ভেবে এখনও শিউরে উঠছেন অনেকে।
মন্দিরে বৃদ্ধার শেষকৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন Thammanun. তিনি জানিয়েছেন, কফিনটিকে তুলে মূল হল ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছি। সেই সময় ভিতর থেকে হালকা আঙুলের টোকা এবং কান্না শুনতে পান তিনি। কিন্তু মারা গিয়েও এভাবে ফিরে আসা কি সম্ভব? কোন মন্ত্রে ফিরে এলেন Chonthirot? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্বাস চলাচল বন্ধ হয়নি বৃদ্ধার। রক্তে শর্করার মাত্রা এতটা নেমে গিয়েছিল যে, তাঁকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। ঠিক মতো পরীক্ষাও হয়নি বলে মত তাঁদের।