মহারাজগঞ্জ: স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া বাড়তে বাড়তে চরম আকার নিল। স্বামীকে ভুয়ো পণের মামলায় ফাঁসানো এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বসলেন মহিলা। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জের ঘটনা যেখানে এই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে (UP News) ঝামেলা বাধে সেই মহিলার হঠাৎ গর্ভবতী হওয়াকে কেন্দ্র করে। স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করতে শুরু করে এবং সেই মহিলার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।

পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ২০২২ সালের জুন মাসে এই দম্পতির বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই শুরু হয় সমস্যা। স্বামী অভিযোগ জানান যে তাঁর স্ত্রী নিরন্তর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অনীহা প্রকাশ করে এসেছেন, বাধা দিয়েছেন। আর এই কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সেই ব্যক্তি। তিনি এও দাবি করেন যে তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ সেই মহিলা বারেবারেই উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগর জেলায় বাপের বাড়ি যেতেন। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একইভাবে একদিন বাপের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এবারে স্বামীকে কিছু না জানিয়েই চলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ সেই মহিলার কাছে যান, ঘরে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। যদিও এপ্রিল মাসে ঘটনায় আসে নতুন মোড়।

পেটে অসহ্য ব্যথা হওয়ায় সেই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানেই চিকিৎসকেরা জানান যে তিনি গর্ভবতী, তাঁর গর্ভে ১৪ সপ্তাহের ভ্রুণ রয়েছে। এই ঘটনা জানতে পেরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনেক চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। আর প্রত্যেকেই তাঁকে একই কথা বলেন। আর এই বিষয় নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে সেই মহিলা স্পষ্ট জানান যে এই সন্তান অন্য কারও, তাঁর স্বামীর নয়। আর তখনই স্বামীকে হুমকি দিয়ে বসেন সেই মহিলা যে, এই সন্তানকে নিজের বলে না মেনে নিলে হয় তাঁকে প্রাণে মেরে দেবেন তিনি অথবা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে পণের মামলায় তাঁকে ফাঁসাবেন।

এই ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। মহারাজগঞ্জের পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও বাকি আইনি কার্যকলাপ চলছে। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে। জনৈক নেটিজেন লিখেছেন, 'এখন তো লিঙ্গ সাম্যের আইনের যুগ নাকি- নিরপরাধ লোকেরা কোথায় ঠাঁই নেবে ? লিঙ্গের ভিত্তিতে আইনের বদলে নিরপেক্ষ আইন আনা হোক, সকলের জন্য সকলের হয়ে যা কথা বলবে'। অন্য আরেকজন লিখেছেন, 'স্বামীর উচিত নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বোঝাপড়া করে নেওয়া এবং সেই সন্তানকে বড় করা কারণ ভারতে এর বাইরে অন্য কোনও বিকল্প নেই তাঁর জন্য।'