নয়া দিল্লি: ক্লাসরুমে পড়াশোনার বদলে ন্যাড়া ছাত্রের মাথাতেই ‘তবলা’ বাজাতে শুরু করলেন শিক্ষক! শুধু তাই নয়, সেই কাণ্ডের ভিডিয়ো নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও পোস্ট করেন তিনি। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই শুরু হয় বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড হতে হল উত্তরপ্রদেশের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে। ঘটনাটি ঘিরে যেমন হাস্যরসের উপাদান খুঁজে পেয়েছেন অনেকে, তেমনই এক শিশুর সঙ্গে শিক্ষকের এমন আচরণ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

Continues below advertisement

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলার সাইফাই ব্লকের বিরৌলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম দীনেশ কুমার মাথুর। তিনি ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষের মধ্যে চেয়ারে বসে রয়েছেন শিক্ষক। তাঁর সামনে মেঝেতে বসে এক ছাত্র। শিশুটির মাথা কামানো ছিল। সেই ন্যাড়া মাথায় আঙুল ও হাত দিয়ে তবলা বাজানোর মতো ভঙ্গি করতে শুরু করেন শিক্ষক। তাঁকে হাসতে ও মজা করতে দেখা যায়। আশপাশে বসে থাকা অন্য পড়ুয়ারাও গোটা ঘটনাটি দেখছিল।

Continues below advertisement

সাধারণত ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ড, খাতা কিংবা বই নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা শিক্ষকের। কিন্তু এখানে ছাত্রের মাথাই হয়ে উঠল তাঁর ‘বাদ্যযন্ত্র’! এই অদ্ভুত কাণ্ডের ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনাটির সবচেয়ে আশ্চর্যের দিক হল, শিক্ষক নিজেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিয়োটি পোস্ট করেছিলেন বলে NDTV-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মজার ছলে করা কাণ্ডই কাল হল শিক্ষকের

প্রথম দর্শনে ভিডিয়োটিকে কেউ কেউ নিছক মজার ঘটনা বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু স্কুলের মধ্যে একজন শিক্ষক কীভাবে কোনও পড়ুয়ার সঙ্গে আচরণ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে শিশুটি শিক্ষকের সামনে বসেছিল, সে ঘটনাটিকে কীভাবে নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে কোনও পড়ুয়া অস্বস্তি বা অপমান বোধ করতে পারে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

নেটমাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী শিক্ষকের আচরণের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব পড়ুয়াদের শেখানো, তাদের সম্মান বজায় রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিশুকে নিয়ে এমন আচরণকে নিছক মজা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই পদক্ষেপ শিক্ষা দফতরের

ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষা দফতরের কাছে অভিযোগ পৌঁছয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ইটাওয়ার বেসিক শিক্ষা আধিকারিক ড. রাজেশ কুমার অভিযুক্ত শিক্ষককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করেন বলে NDTV জানিয়েছে।

অর্থাৎ, ছাত্রের মাথায় তবলা বাজানোর দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকের সেই মজাই তাঁর চাকরির ক্ষেত্রে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াল। তবে সাসপেনশনকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; পরবর্তী বিভাগীয় পদক্ষেপের বিষয়ে তদন্তের তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই ঘটনা শুধু একটি অদ্ভুত ভাইরাল ভিডিয়োর গল্প নয়। স্কুলে শিক্ষক ও পড়ুয়ার সম্পর্কের সীমারেখা কোথায় থাকা উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। শিশুদের নিয়ে তৈরি কোনও ভিডিয়ো হাসির খোরাক হয়ে উঠলেও, তাতে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার মর্যাদা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হওয়ার জন্য স্কুলের ভিতরে পড়ুয়াদের নিয়ে এমন কাণ্ড করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকের দায়িত্বশীল আচরণ এবং শিশুদের সম্মান রক্ষার বিষয়টিই এই ঘটনার মূল আলোচ্য হয়ে উঠেছে।