Divorce Case: সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কোর্টরুমের একটি ভিডিয়ো আর তা তুমুল ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এক অদ্ভুত মামলার ঘটনা জানা যাচ্ছে সেই ভিডিয়ো থেকে যেখানে এক ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী হঠাৎ করেই ফিরে আসেন বিচ্ছেদের ১২ বছর পর। আর সেই ব্যক্তি দাবি করেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী জোর করেই ঘরে ঢুকে আসেন এবং তাঁকে আবার বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ২০১৩ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু এত বছর পরে সেই মহিলার আবার ফিরে আসার কারণে বাধ্য হয়েই আইনি পথে হাঁটতে বাধ্য হন এই ব্যক্তি।

ভিডিয়োর শুরুতে দেখা যায় বিচারপতি মন দিয়ে শুনছেন এই ব্যক্তির কথা, তিনি বলেন ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়, তারপর ২০১৩ সালেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপরে তিনি উল্লেখ করেন বিগত ৩ মার্চ তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী'র ভাই ও অন্য আরও কয়েকজন পরিবারের সদস্য মিলে হঠাৎ তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। এত বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না থাকার পরেও এই মহিলা এখন ব্যক্তির বাড়িতেই থাকছেন।

এর উত্তরে বিচারক জিজ্ঞাসা করেন যে এতে হাইকোর্টের কী করার আছে। সেই ব্যক্তি আরও জানান যে তিনি পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করলেও তারা এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। তিনি তাই আদালতের সাহায্য চান যাতে তাঁর স্ত্রী ঘর খালি করে চলে যান। তিনি এও বলেন যে ১৫ বছর পরে আবার বিয়ে করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি, এর মধ্যেই প্রাক্তন স্ত্রীর চলে আসার কারণে তিনি সমস্যার মুখে পড়ছেন। আর এর উত্তরে বিচারক বলেন, 'আপনার এফআইআর দায়ের হয়েছে, এরপরে তদন্ত হবে। কিন্তু কাল যদি কোনও সরকারি উকিল আপনার ঘরে এসে থাকতে শুরু করে, তাহলে তাঁকে কোন আইনে ঘর থেকে বের করবেন ? আর এখানে ইনি তো আপনারই স্ত্রী ছিলেন আগে। আইন তো বলুন'।

তবে অবশেষে হাসি-ঠাট্টার পর্ব মিটলে বিচারক জানান প্রাক্তন স্ত্রীকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো যাতে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে যে কোন আইনে তিনি বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে জোর করে থাকতে শুরু করেছেন।

কিন্তু এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পরেই সমাজমাধ্যমে তীব্র বিদ্রুপ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন লিখেছেন যে এরকম পদে বসে কীভাবে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনের অবস্থা নিয়ে মজা করতে পারেন ? আবার একজন লিখেছেন যে বিবাহ বিচ্ছেদের ১২ বছর পরে সেই মহিলা আদপেই একজন অজানা ব্যক্তি, তিনি একজনের ঘরে জোর করে ঢুকে আসছেন মানে সেটা অনুপ্রবেশের পর্যায়ে পড়ে। এই অনুপ্রবেশ বেআইনি, ফলে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করাই যায়, কিন্তু এই বিচারক এবং উকিল কিছুই জানেন না।