AC Using Tips : দিনরাত এসি চালালেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বিদ্যুতের বিল, কেবল মানতে হবে এই পরামর্শগুলি

১৫ ঘণ্টা এসি চালালেও ইলেকট্রিক বিল থাকবে নিয়ন্ত্রণে, কীভাবে ?
প্রবল গরমে নাভিশ্বাস ওঠার মতো পরিস্থিতি হয়েছে রাজ্যে। তীব্র দহনের সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে শরীর। অগত্যা এসির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে আমাদের। যদিও দিনরাত এসি চালালে বিদ্যুতের বিলও বাড়াচ্ছে চিন্তা। তবে, এই সাত পরামর্শ মেনে চললে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার বিদ্যুতের বিল।
কম মাত্রায় এসি চালালেই ঘর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় না। আপনাকে এই ক্ষেত্রে আরও অনেক কিছু নজরে রাখতে হয়। বিশেষ করে ছাদের ঘর বা বাড়ির ওপরের তলার ঘর বেশি গরম হয়। সেই ক্ষেত্রে ১৬ ডিগ্রিতে এসি চালালেই ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে না !
এই ধরনের ভুল আমরা প্রায়শই করে থাকি। এসি চালু করলেও দরজার তলায় বা জানালায় ফাঁক-ফোকর বন্ধ করতে ভুলে যাই আমরা। সামান্য ফাঁকা বলই এই বিষয়ে অবহেলা করা হয়। যদিও এই ছোট ভুলই আমাদের বড় বিদ্যুতের বিল দিতে বাধ্য করে। এরকম পরিস্থিতি থাকলে ঘর ঠান্ডা করতে এসি-র ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে। তাই এসি চালু করার আগে ঘরটি যাতে পুরোপুরি এয়ার-টাইট হয়, সেদিকে নজর রাখুন।
১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে এসি না চালিয়ে ঘরের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রিতে রাখুন। ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)-এর মতে, মানুষের শরীরের জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব হয়। এই তাপমাত্রায় এসির ওপরও কম চাপ পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় প্রায় ২৩% পর্যন্ত।
আমরা অনেকেই মনে করি, এসির সঙ্গে ফ্যান চালানো উচিত নয়। এতে ইলেকট্রিক বিল আরও বেশি আসে। তবে আসল বিষয় হল, সারা ঘরে এসির হাওয়া ছড়িয়ে পড়তে ফ্যান ভাল কাজ দেয়। এতে দ্রুত ঘর ঠান্ডাও হয় এসি ১৬ বা ১৮তে দিতে হয় না।
প্রবল গরমে এসির ফিল্টার অবশ্যই পরিষ্কার করা উচিত। এই ধুলো মায়লার দিনে প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর এসির ফিল্টারটি খুলে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। এসির ফিল্টারটি নিজে পরীক্ষা করে পরিষ্কার করে নিন। বেশিরভাগ সময় এতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
সময়ে সময়ে এসির সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না হলে এসির কুলিং কয়েলে ধুলো জমে যায়, পাইপ ব্লক হতে পারে বা গ্যাস কমে যেতে পারে। কোনো অনুমোদিত বা নির্ভরযোগ্য টেকনিশিয়ানকে দিয়ে বছরে অন্তত একবার এসি সার্ভিসিং করালে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এই বিষয়টা অনেকেই করেন না। মনে করে রাতে ঘুমানোর সময় ১ বা ২ ঘণ্টার টাইমার সেট করে দিন। এতে আপনার ঘুমের প্রথম ভাগে ঘর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর এসি নিজে থেকেই বন্ধ বা তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। মাঝরাতে ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা হবে না এবং সারারাত অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচও বাঁচবে।
এসির কাজ শেষে আমরা অনেকেই শুধু রিমোটের বোতাম টিপে রেখে দিই। কিন্তু মনে রাখবেন, রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও এসি আসলে 'স্ট্যান্ডবাই' (Standby) মোডে থাকে, যা অনবরত কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই এসি ব্যবহার না করলে দেওয়ালের মেইন সুইচটি অবশ্যই বন্ধ করুন।