Merry Christmas 2021: বো-ব্যারাকে বড়দিন, করোনার প্রকোপ কাটিয়ে উৎসবের মরসুম মহল্লায়

বো-ব্যারাকে বড়দিন

1/14
চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে, বউবাজার থানার পিছনের গলি দিয়ে খানিক এগোলেই আয়তকার চাতাল। লাল ইটের পাঁজর নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। যার পরতে পরতে লুকিয়ে ইতিহাস।
2/14
শোনা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আমলে আমেরিকান সৈনদের জন্যই এই ব্যারাকের পত্তন। যুদ্ধের পর খালি ব্যারাকের পুরোটাই দখল করে নেন কলকাতার এক প্রাচীণ জনগোষ্ঠী।
3/14
কলকাতার বুকে এ এক অন্য কলকাতা। আয়তকার এই চাতাল আসলে ডিসুজা, ডিরোজিও, ক্রিস্টোফার, অগাস্টিনের মহল্লা। এখানে ৩২টি পরিবারের বসবাস।
4/14
ফি বছর এখানে ভিড় করেন শহরের মানুষ। পার্ক স্ট্রিট, সেন্ট পলস, ক্যাথিড্রালেও মতোই এই বো-ব্যারাকও শহুরে বাসিন্দাদের অন্যতম ডেস্টিনেশন বড়দিনের মরসুমে।
5/14
২৫ ডিসেম্বরের আগে ক্রিসমাস ট্রি, সান্তাক্লজ, রং-বেরঙের বেলুন আর আলোর রোশনাই-এ সেজেছে এই পাড়া। ঘাড় অবধি ছাঁটা কাঁচাপাকা চুল, পরনে ফুলছাপ গাউন। কেক আর ওয়াইন বিক্রি করতে বেজায় ব্যস্ত বুড়ি মা।
6/14
বয়সের ভার বাড়লেও বড়দিনে ব্যারাকজুড়ে উৎসবের মেজাজ। এই মহল্লার জেন ওয়াই-এর বেশিরভাগই আজ কর্মসূত্রে বিদেশে। তবে এই সময়ে শিকড়ের টানে ফিরে আসেন সকলেই। ঘরে ফেরার আনন্দতে ফের আলো ঝলমল করে ওঠে বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া বো-ব্যারাক।
7/14
বড়দিন আসার আগে থেকেই চলতে থাকে নানা কর্মকাণ্ড। এখানেই নিজের হাতে রেড ওয়াইন তৈরি করা হয়।
8/14
এর পর শুরু হয় বিক্রি। পাশাপাশি তালিকায় থাকে মোমো, কেকও। সবমিলিয়ে বড়দিনের এই সময়টা যেন অন্য এক আমেজ বিরাজ করে এই মহল্লায়।
9/14
এই মহল্লার ডান দিকে গেলে বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা, বাঁ দিকে আরও এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান মানেকজি রুস্তমজি পার্সি ধর্মশালা। বিশুদ্ধ পার্সি খাবারের জন্য ভোজন রসিক মানুষরা ভিড় জমান এইখানে।
10/14
এটি কোনও সাধারণ রেস্টুরেন্ট নয়। দু-দিন আগে নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে হয়। ওনারা মেনু পাঠিয়ে ওর্ডার নেন। তবে কলকাতার শতাধিক পার্সি ধর্মাবলম্বীদের জন্য রোজই রান্নার আয়োজন করেন কর্তৃপক্ষ।
11/14
তবে অভিমানও কম জমেনি এদিকে। এত আলোর মাঝেও যেন জমাট বাঁধা একরাশ অভিমান। ফি বছর কত মানুষ আসেন, ছবি তোলেন ফিরে যান।
12/14
কিন্তু অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান তকমা আজও একই রয়ে গিয়েছে। কলকাতাবাসী হওয়া গিয়েছে কি? রাগ হয় না ওদের? হয় বৈকি। মুখে কিছু না বললেও চোখগুলো যেন তেমনই বলে।
13/14
এ পাড়ায় আসা অতিথিদের যেন সন্তর্পনেই এড়িয়ে যান ওরা। 'সময় নেই'-এর অজুহাতে মিষ্টি হেসেই ফিরিয়ে দেন। বারবার যেন একই কথা বলতে ভাললাগে না।
14/14
ঘোলাটে দৃষ্টি নিয়ে ওপরের বারান্দার বসে থাকেন গ্র্যানি। বো-ব্যারাকের লাল ইটের গা বেয়ে সন্ধে নামে। আর এভাবেই নিয়ম মেনে ২৫ ডিসেম্বর আসে প্রতিবছর।
Sponsored Links by Taboola