Nepal Flood : নেপালের এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞের কারণটা ঠিক কী? নেপথ্যে চিনের তৈরি বাঁধ? বিশেষজ্ঞদের কী পর্যবেক্ষণ

নেপথ্যে চিনের তৈরি বাঁধ? বিশেষজ্ঞদের কী পর্যবেক্ষণ
শান্ত পাহাড়ি নদীতে হঠাৎ যেন কীসের শব্দ! মোবাইল ক্যামেরা ফোকাস করতেই সামনে আসে বিপদের ভয়াবহ ছবি। তারপর আর পিছন ফিরে তাকানোর সুযোগ ছিল না। কাগজের মতো ভেসে গেল কংক্রিটের সেতু, কাদা-জল-পাথরের স্রোতে ভেসে গেল বাড়ি, গাড়ি। নিমেষে তছনছ এভারেস্টের দেশের একাংশ।
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের ৬টি জেলা। হতাহত অসংখ্য। ভয়াবহ এই বিপর্যয় ফিরিয়ে আনল ২০১৫ সালের স্মৃতি। কিন্তু কীভাবে তৈরি হল এমন ভয়ঙ্কর জলপ্রবাহ? বিপর্যয়ের নেপথ্যে কি শুধুই অতিবৃষ্টি, নাকি রয়েছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসের যোগ?
প্রথমে ভূমিকম্পের জেরে বিপর্যয় বলে আশঙ্কা তৈরি হলেও, বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা অন্য কথা বলছে। তাঁদের মতে, তিব্বতের পাহাড়ি এলাকায় বিশাল বরফ ও পাথরের ধস থেকেই তৈরি হতে পারে এই ভয়াবহ জলপ্রবাহ। অর্থাৎ পাহাড়ে ধস, আর তার জেরে নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বড় পরিবর্তন।
নেপাল প্রশাসন সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরে তিব্বত ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জলাধার ও নদীগুলিতে জলের চাপ বাড়তে থাকে। সেই জলপ্রবাহের সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার বরফ ও পাথর ধসের যোগেই বিপর্যয় আরও ভয়ঙ্কর আকার নেয় বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
ভূবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, হিমবাহ ধসের কারণে তিব্বতের লেন্দে নদীর প্রবাহ কোনওভাবে আটকে গিয়ে থাকতে পারে। ফলে এক জায়গায় বিপুল জল জমতে থাকে। সেই জলাধার বা প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আচমকা বিপুল জলরাশি নীচের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। আর তাতেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর হড়পা বান।
এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF। হিমবাহ গলে বা ধসে তৈরি হওয়া জলাধারের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল জল নীচের দিকে নেমে আসে। পাহাড়ি এলাকায় এমন জলস্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মিশে গেলে তার ধ্বংসক্ষমতা আরও বেড়ে যায়।
এরই মধ্যে ফের বড় আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চিন। ভূমিধসের ফলে তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে ছোছেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে তৈরি হয়েছে নতুন একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল।
শুধু তাই নয়, ওই হ্রদে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমতে পারে বলে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই হ্রদ উপচে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের বিপুল জলরাশি নেপালের দিকে নেমে আসতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে চিন।
নেপালের বিপর্যয়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উষ্ণায়নের জেরে হিমবাহ দ্রুত গলছে, তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী হ্রদ। অতিবৃষ্টি, হিমবাহ ধস এবং পাহাড়ি নদীর গতিপথে বাধা—এই একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করলে GLOF-এর মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নেপালে হড়পা বান বিপর্যয়ের নেপথ্যে কি চিনের তৈরি বাঁধ? তিব্বতের মানস সরোবরের অদূরে আনসি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় চিনের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে এই প্রশ্ন উঠেছে।