AI Risks: AI নিয়ে এবার সতর্ক করলেন DeepSeek ইঞ্জিনিয়ার, বললেন, ‘হিটলারের হাতে পরমাণু বোমা তুলে দেওয়ার সমান’

AI-এ অশনি সঙ্কেত? পর পর সতর্কবার্তা।
বিপুল সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কয়েক দিন আগে পর্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা চোখে পড়ত। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। সাধারণ মানুষ নন, প্রযুক্তি জগতের রথী মহারথীরই AI-কে থামানোর আর্জি জানাচ্ছেন। সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করে পর পর চাকরি ছাড়ছেন AI গবেষকরা।
আর সেই আবহেই এবার বড় দাবি সামনে এল। আমেরিকার AI সংস্থা Anthropic-কে নিশানা করলেন এক AI গবেষক। তাঁর মতে, আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইনটেলিজেন্স (AGI), অর্থাৎ মানুষের চেয়ে দক্ষ এবং বুদ্ধিমান AI মডেল যদি হাতে পায় Anthropic, তা অ্যাডল্ফ হিটলারের হাতে পরমাণু বোমা তুলে দেওয়ারই সমান হবে।
AI নির্ভর ভবিষ্য়তের স্বপ্নে এতদিন মশগুল ছিল প্রায় গোটা বিশ্বই। কিন্তু সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতের রথী-মহারথীরাই AI-এর গতি শ্লথ করার সপক্ষে সওয়াল করছেন। খোদ ইলন মাস্কও AI-এর গতি রোধ করার দাবি তুলেছেন। সেই আবহেই মুখ খুলেছেন চিনের AI সংস্থা DeepSeek-এর এক ইঞ্জিনিয়ার।
Anthropic কর্তা ড্যারিও আমোডেই সম্প্রতি AI নিয়ে পিছু হটার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন দীর্ঘ ব্লগ-পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যে গতিতে AI-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তাতে আমি আশঙ্কা করছি যে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে গোটা ইন্টারনেট জগতের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নিতে পারে ঝাঁক ঝাঁক AI. এতে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণের কাঠামো ছাড়া AI শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষতি আরও বাড়তেই থাকবে’।
সেই নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন DeepSeek-এর ওই ইঞ্জিনিয়ার। তিনি লেখেন, ‘আমি মনে করি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সকলের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। Anthropic এবং OpenAI তা করতে পারে বলে মনে হয় না আমার’।
ওই ব্যক্তি আরও লেখেন, ‘আমি চাই না Anthropic সর্বোত্তম AI প্রযুক্তির নাগাল পাক। নাটকীয় শোনাবে হয়ত, তবে আমার মনে হয়, প্রতিপক্ষের আগে হিটলারের হাতে পরমাণু বোমা পৌঁছে যাওয়ার সমান ঝুঁকি রয়েছে এক্ষেত্রে। আর তাই আমি DeepSeek-এ থাকতে চাই। আমরা শক্তিশালী, সহজলভ্য AI নিয়ে গবেষণা করি এবং তা পৌঁছে দিই সকলের নাগালের মধ্যে’।
প্রযুক্তি সংস্থাগুলির হাতে সর্বোত্তম AI প্রযুক্তি পৌঁছে গেলে মারাত্মক বিপদ নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর মতে, একে একজন অসীম শক্তির মালিক হয়ে উঠবে। আরও বেশি অসাম্য তৈরি হবে সমাজে। অন্য সংস্থা এবং অন্য মানুষজনকে বাঁচতে হবে তার দয়ায়।
AI শুধুমাত্র মানুষের চাকরি খাবে বলে যে আশঙ্কা, তা তেমন জোরদার নয় বলে মত ওই ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মতে, গোটা সমাজব্যবস্থাকেই গিলে নিতে পারে AI. AI নিয়ে যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, কারও হাতে AGI ওঠা, হাতে পরমাণু অস্ত্র পাওয়ারই সমান।
বেশ কিছু দিন ধরেই AI নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন প্রযুক্তিক্ষেত্রের তাবড় ব্য়ক্তিত্ব। Anthropic কর্তা ড্যারিও জানান, নজরদারি এড়িয়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে AI, যা তাঁদের উদ্বেগ বেরিয়েছে। AI নিয়ে পিছু হটার বার্তা দেন স্যাম অল্টম্যান, এমনকি ইলন মাস্কও।
AI-এর ভয়াবহতা আঁচ করে Anthropic থেকে পদত্যাগ করেছেন জেকব কক্সন। তাঁর দাবি ছিল, চলতি দশকের শেষেই মানুষকে মেরে মেরে ফেলতে পারে AI. Google-এর DeepMind AGI সেফটি টিম থেকে পদত্যাগ করেছেন জশ এঙ্গেলসও। তাঁর বক্তব্য, ‘গত কয়েক সপ্তাহে এমন সব মডেলের কথা জানতে পেরেছি, যারা আমাদের ফাঁকি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আঁতাত গড়েছে। সিস্টেম হ্যাক করেছে বিভিন্ন সংস্থার। নিজেদের কর্মকাণ্ডের চিহ্ন মুছে ফেলেছে নিজেরাই। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে মানুষকে। আমার মনে হয়, আগামী পাঁচ বছরে AI-এর দরুণ ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যথেষ্ট কারণ রয়েছে ভীত হওয়ার। ঝুঁকি এতটাই বেশি যে আমার মনে হয় বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা এটাই’।