Why Do We Lie: মিথ্যে বলেন সকলেই, শুধুই অভ্যাস নয়, কারণ একাধিক, বলছেন মনোবিদরা

ছবি: ফ্রিপিক।
বাস্তব জীবনে সত্যবাদী যুধিষ্ঠির হওয়া একরকম অসম্ভব। পরিস্থিতি বিচার করে অতি বড় সৎ ব্যক্তিকেও মিথ্যে বলতে হয়। কখনও আবার কৌশলে এড়িয়ে যেতে হয় সত্যকে।
কারও কারও মধ্যে মিথ্যে বলার প্রবণতা যদি বেশি হয়, তবে কমবেশি প্রত্যেকেই মিথ্যে বলেন। কিন্তু কেন মিথ্যের আশ্রয় নিতে হয় মানুষকে? রয়েছে একাধিক বিশ্লেষণ।
আমেরিকার প্রখ্যাত মনোবিদ পল একম্যানের সংস্থা এ নিয়ে একাধিক তত্ত্ব সামনে এনেছে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে তারা।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শাস্তির ভয়েই মূলত মিথ্যে বলেন অনেকে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য, আবার বড়দের ক্ষেত্রেও। শাস্তি এড়াতে মিথ্যে বলেন কেউ, কেউ আবার সম্ভাব্য পরিণতি আঁচ করে।
শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, বাড়তি সুবিধা পেতেও মিথ্যে বলার চল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ চাকরির ইন্টারভিইয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতার মিথ্যে ফিরিস্তি দেওয়ার উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু নিজেকে বাঁচাতেই নয়, অন্যকে বাঁচাতেও মিথ্যে বলতে হয় অনেক সময়। বন্ধুবান্ধব থেকে পরিবারের সদস্য এমনকি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অচেনা ব্যক্তিকে বাঁচাতেও মিথ্যে বলার চল রয়েছে।
ভুলের জন্য আফশোস হলেও, অনেক সময় সত্য বলার সাহস থাকে না। আবার নিরাপত্তার খাতিরেও মিথ্যে বলতে হয়। বাড়িতে একা থাকার সময় অচেনা ব্যক্তিকে দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদাহরণ মিলেছে।
প্রশংসা পেতে কার না ভাল লাগে? তাই অনেক সময়ই মনগড়া কথা বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই আমরা। বন্ধুমহলে কেউকেটা হয়ে উঠতে মিথ্যে বলেন অনেকেই।
অস্বস্তি এড়াতেও মিথ্যে বলতে হয় অনেক সময়। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ না জানিয়ে, সহজে কোথাও থেকে বেরিয়ে আসতে মিথ্যে বলার চল রয়েছে। বাহানা দিয়ে ফোন কেটে দেওয়া থেকে কোনও পার্টি বা সমাবেশ থেকে বেরিয়ে আসা এর মধ্যে পড়ে।
অনেক সময় সামাজিক রীতিনীতির সামনে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। নিজেকে তো বটেই, অস্বস্তিতে পড়তে হয় পরিবারকেও। সেখানেও মিথ্যে বলা ছাড়া উপায় থাকে না। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা আড়াল করতেও মিথ্যের আশ্রয় নেন অনেকে।
রাজনীতিকরা যখন মিথ্যে বলেন, তার নেপথ্যে থাকে ক্ষমতায় থাকার অভীপ্সা। মানুষকে বিপথে চালিত করে নিজের এবং দলের স্বার্থরক্ষা করেন তাঁরা। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে মিথ্যে বোঝান মানুষকে।