ভোলেবাবা ভগবান মহাদেবের ব্রতের তুলনায় বড় ব্রত আর নেই। এ বড় বিশ্বাস শিবভক্তদের। শিবরাত্রির আগের দিন থেকে ভক্তিভরে নিয়ম পালন করে, শিবরাত্রির দিনে উপবাস সহযোগে পুজো করেন ভক্তেরা। পরে রাতে বিশেষ চার প্রহরে পুজো করে রাত জেগে ব্রতের পালন ও পারণ করলে ভগবান শিব বড় প্রসন্ন হয়ে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন বলে বিশ্বাস যুগে যুগে। শিব পুজোর চার প্রহরের পুজোর রীতি তো জানাই, এই প্রতিবেদনেও উল্লেখ থাকবে তার। তবে যা ছাড়া শিবপুজো সম্পন্ন হয়েও সম্পন্ন হয় না বলে মনে করা হয়, সেই শিবরাত্রির ব্রতকথা রইল এখানে —-
শিবপুজো ও শিবরাত্রির নানা ব্রতকথা প্রচলিত। তারমধ্যে একটি হল
কৈলাস ধাম। একদিন সেখানে মা পার্বতী ভগবান শিবকে জিজ্ঞাসা করলেন - হে দেব, কোন ব্রত, তপস্য বা পুজোয় আপনি সবচেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন ? ভগবান শিব উত্তর দিলেন - ফাল্গুন মাসে কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে উপবাস করে রাতে আমার পূজা করলে আমি অতি সন্তুষ্ট হয়ে থাকি। মা পার্বতী বললেন, সেই পুজোর নিয়ম কী ?
নিয়ম - আগেরদিন একবেলা নিরামিষ খেয়ে সংযমপূর্বক ভগবানের আরাধনা করতে হবে। সকালে উঠে বেলপাতা তুলতে হবে। সন্ধের পর বেলপাতা সহযোগে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে বা প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গে পুজো করতে হবে। পরে রাত জেগে ভগবান শিবের আরাধনা করতে হবে ভক্তিভরে। পরের দিন পারণ। শুনতে হবে ব্রতকথা।
ব্রতকথা
একদা বারাণসীতে এক ব্যাধ ছিল। সে একদিন বহু পশুপাখি বধ করল। তবে সন্ধে হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারেনি। রাত বাড়ে। কী করবে। জঙ্গলে এক বেলগাছে রাতটা কাটিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিল। ঘটনাক্রমে সেদিন ছিল মহা শিবরাত্রি। সারাদিন উপবাসে ছিল ব্যাধ। তার উপর শীতের কারণে কাঁপছিল গোটা শরীর। যত সে কাঁপছিল গাছ থেকে শিশির আর বেলপাতা পড়ছিল নিচে। গাছের তলাতেই ছিল এক শিবলিঙ্গ। কথিত আছে, সে রাতে সবে মিলিয়ে শিবরাত্রি ব্রতের ফল পেল সেই ব্যাধ। সময় পেরোয়। এরপর যখন সেই ব্যাধের মৃত্যু হল, আত্মা আনতে গিয়ে শিবদূতের কাছে বাধা পেল যমদূত। খবর পেলেন যম। তিনি নিজে গেলেন কৈলাসে। শিবের প্রধান অনুচর নন্দী তাঁকে শোনালেন ব্যাধের শিবরাত্রি ব্রতের ফলে পুণ্যালাভ ও শিবালয়ে আশ্রয়প্রাপ্তির কথা।
মা পার্বতী এই কাহিনী শুনলেন। করলেন প্রচার। কথিত - সেই থেকে প্রচারিত হল, দেবাদিদেব মহাদেবের থেকে অধিক পূজ্য, গঙ্গার মত তীর্থ, অশ্বমেধ হতে বড় যজ্ঞ, এবং শিবরাত্রির থেকে বড় ব্রত আর নেই।
জয় বাবা শিবের জয়। জয় দেবাদিদেব মহাদেবের জয়।
ডিসক্লেমার : ধর্মীয় বিশ্বাস নিজস্ব। এ ব্যাপারে কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ ধর্ম সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।