নয়াদিল্লি: প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে ফুঁসছে আগ্নেয়গিরি। যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে অগ্ন্যুৎপাত। চলতি বছরই বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে এবার সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা। জানালেন, এখনই দিনে ১০০০-এর বেশি বার মাটি কাঁপতে শুরু করেছে। আগ্নেয়গিরিটি ফেটে পড়লে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যেতে পারে বলে দাবি তাঁদের। (Pacific Ocean Volcano)

প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে অবস্থিত আমেরিকার অরাগন  অঙ্গরাজ্যটি। এই অরাগন সংলগ্ন এলাকায়, প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে Axial Seamount আগ্নেয়গিরিটি ফুঁসছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে, প্রায় এক মাইল নীচে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি। অরাগন উপকূল থেকে দূরত্ব প্রায় ৩০০ মাইল। হুয়ান দে ফুকা শৈলশিরা বরাবর অবস্থিত  Axial Seamount. (Axial Seamount)

অতীতে একাধিক বার  Axial Seamount থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। সাম্প্রতিক কালে ১৯৯৮, ২০১১ এবং ২০১৫ সালে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে জলের নীচে। ২০২৫ শেষ হতে হতে ফের একবার  Axial Seamount-এর জ্বালামুখ থেকে লাভা নির্গত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, আগ্নেয়গিরি সংলগ্ন সমুদ্রের তলদেশ ইতিমধ্যেই ফুলে উঠেছে। ২০১৫ সালে অগ্ন্যুৎপাতের আগেও ঠিক এমনটা ঘটেছিল। পাশাপাশি, সেখানে ভূমিকম্পও বেড়ে গিয়েছে। তীব্রতা কম হলেও, দিনে প্রায় ১০০০ বার মাটি কাঁপছে। ফলে বড় কিছু ঘটতে চলেছে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।

প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে  Axial Seamount কী অবস্থায় রয়েছে, তার উপর লাগাতার নজরদারি চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। উচ্চ প্রযুক্তির সাহায্যে এমন নেটওয়র্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ফাইবার অপকিট্যাল কেবল ছড়িয়ে রয়েছে যেমন, তেমনই রয়েছে ছবি তোলার প্রযুক্তি। যে প্রতি মুহূর্তের তথ্য় হাতে চলে আসে। তবে  Axial Seamount থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে, তার দরুণ কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জলের এত গভীরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে মাটির উপর সুনামি বা ভূমিকম্পের বিধ্বংসী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম বলেই মত বিজ্ঞানীদের একাংশের। তবে বড় কিছু ঘটলে বিপদ ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এই মুহূর্তে প্রশান্ত মহাসাগরের নীচের ঘটনাবলী খুঁটিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণই লক্ষ্য় নয়, মহাসাগরের নীচে লাভা নির্গমনের ফলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের উপর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেও নজর রয়েথে।