নয়াদিল্লি: লালগ্রহ হিসেবে পরিচিত হলেও, এককালে হয়ত পৃথিবীর মতোই নীল ছিল মঙ্গলগ্রহ। লালগ্রহের উত্তর গোলার্ধকে সম্পূর্ণ ঢেকে রেখেছিল আস্ত একটি মহাসাগর। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন গবেষণাপত্রে এমনই তথ্য উঠে এল এবার। কক্ষপথ থেকে নজরদারি চালিয়ে মঙ্গলের বুকে ব-দ্বীপের চিহ্নও চোখে পড়েছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। (Arctic Like Ocean on Mars)

Continues below advertisement

গত ৭ জানুয়ারি NPI Space Exploration জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে যে কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মোতায়েন রয়েছে, তাদের ক্যামেরায় তোলা ছবি থেকেই মঙ্গলের আদিম চরিত্র বোঝা গিয়েছে, ব-দ্বীপের ধুলোময় ব-দ্বীপের অবশিষ্টাংশ এখনও রয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। (Ocean on Mars)

ইউনিভার্সিটি অফ বার্নের গবেষকদের নেতৃত্বে মঙ্গলের বুকে স্থিত Valles Marineris, যা লালগ্রহের বৃহত্তম উপত্যকা, আকারে যা পৃথিবীর বৃহত্তম গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি দীর্ঘ, সেটিকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন বিজ্ঞানীরা। ওই উপত্যকা অঞ্চলে গিরিখাত প্রণালীরকাছে এমন কিছু কাঠামো দেখতে পেয়েছেন তাঁরা, যা দেখতে ব-দ্বীপের মতো।

Continues below advertisement

গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, ‘এই কাঠামোগুলি আসলে নদীর মোহনা, যেখানে নদী গিয়ে সাগরে মেশে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, মঙ্গলের বুকে উপকবলরেখা ছিল এবং আদিম মহাসাগরের অস্তিত্ব ছিল সেখানে’।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ধুলোময়, শুষ্ক একটি গ্রহ হলেও, মঙ্গলের বুকে অতীতে জলের অস্তিত্ব থাকার ভূরি ভূরি ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলের বুকে মোতায়েন রোভার ‘ব্লুবেরি স্টোন’ দেখতে পেয়েছে, যাতে জলধারণকারী আয়রন অক্সাইড থাকতে পারে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র কিউরিওসিটি রোভার গত বছরই মঙ্গলের বুকে অতীতে স্থিত সম্ভাব্য নদীর রূপ কল্পনা করে, ছবি তুলে ধরে। কিছু কিছু অভিযানে মঙ্গলের মাটির নীচে জল সঞ্চিত থাকার ইঙ্গিতও মিলেছে। 

নতুন এই গবেষণাপত্রটিতে মঙ্গলের মাটির গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে মূলত। ExoMars Trace Gas Orbiter, Mars Express, Mars Reconnaissance Orbiter-এর মতো কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি প্রায় মঙ্গলগ্রহের প্রায় ১ লক্ষ ছবি তুলে পাঠায় Mars Reconnaissance Orbiter. 

মঙ্গলের বুকে বিনুনিক মতো ব-দ্বীপ দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা জলে থাকা মিশে পলি, বালি, পাথর দ্বারা সৃষ্ট হয়। ওই সমস্ত ব-দ্বীপের গা হয়েই নদী মহাসাগরে গিয়ে পড়ত বলে মত বিজ্ঞানীদের। পৃথিবীর ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলির সঙ্গে মঙ্গলের ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলির মিলও পেয়েছেন তাঁরা। পৃথিবীতেও নদী গিয়ে মোহনায় মেশার আগে, মুখের কাছে এমন ব-দ্বীপ দেখা যায় বলে দাবি তাঁদের।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১১ হাজার ৯৭৫ থেকে ১২ হাজার ৩০০ ফিট উচ্চতায় ওই উঁচু অংশগুলির সসন্ধান মিলেছে। সেগুলি প্রায় ৩৩৭ কোটি বছর আগে গড়ে উঠেছিল। মঙ্গলগ্রহের উত্তর গোলার্ধের সর্বত্রই সেগুলির উচ্চতা মোটামুটি এক। সেগুলি যেহেতু মঙ্গলের উত্তরে অবস্থিত নিম্নভূমি এবং Valles Marineris উপত্যকা অঞ্চলে অবস্থিত, ওই কাঠামোগুলিকে প্রাচীন উপকূলরেখা হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

বর্তমানে পৃথিবীতে সুমেরু মহাসাগরের আয়তন যা, মঙ্গলের বুকে স্থিত প্রাচীন মহাসাগরটির আকারটিও প্রায় সমান ছিল বলে বেল মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত, ইউনিভার্সিটি অফ বার্নের অধ্যাপক ফ্রিৎজ স্কালনেগার জানিয়েছেন, আগেও মঙ্গলের বুকে মহাসাগর থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আগের চেয়ে এবার হাতে তথ্যপ্রমাণ অনেক জোরাল।