নয়াদিল্লি: মঙ্গলের মাটিতে কি রত্ন লুকিয়ে রয়েছে? সম্ভাবনা উস্কে দিল সেখানে মোতায়েন পার্সিভ্যারেন্স রোভার। লালগ্রহের মাটিতে কিছু উজ্জ্বল আভাযুক্ত নুড়িপাথর খুঁজে পেয়েছে মহাকাশযানটি, যার মধ্যে দুর্মূল্য রত্নের কণা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নুড়িপাথরগুলির মধ্য়ে কোরান্ডাম (Corundum) রয়েছে। ওই কোরান্ডামের মধ্যে কোন ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে, তার নিরিখে প্রাপ্ত রত্নকে চুনি বা নীলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। (Ruby on Mars)

Continues below advertisement

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র মহাকাশযান পার্সিভ্যারেন্স রোভার। মঙ্গলের মাটিতে অনুসন্ধানের কাজে লিপ্ত সেটি। নিউ মেক্সিকোর লস আলমোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে কর্মরত অ্যান ওল্লিলা এবং তাঁর সহকর্মীরা এই আবিষ্কার করেছেন। পার্সিভ্যারেন্স রোভার সুপারক্যামের সাহায্য়ে মঙ্গলের বুকে ‘হ্যাম্পডেন রিভার’ নামের পাথর পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা। (Science News)

পার্সিভ্যারেন্স রোভার সুপারক্যামে কাছে কোনও উপাদান যাচাই করার ব্যবস্থা রয়েছে। পৃথক দু’টি লেজ়ার ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে। কোনও বস্তুর উপরিভাগ হয়ে পুড়িয়ে, নয়ত সেটিতে আলোর বিচ্ছুরণ সৃষ্টি করে, ক্যামেরার সাহায্যে সেই আলো পরীক্ষা করা হয়। দুই পরীক্ষাতেই গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা চুনির সঙ্গে ওই পরীক্ষার ফলাফল মিলে গিয়েছে।

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, ‘হ্যাম্পডেন রিভার’কে পিছনে ফেলে পার্সিভ্যারেন্স রোভারটি জেজেরো গহ্বরের কিনারা ধরে এগোচ্ছিল। সেই সময় ‘কফি কোভ’ নামের আরও একটি নুড়ির সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যেও কোরান্ডামের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ‘স্মিথস হারবার’ নামের আর একটি পাথরেও একই উপাদান পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যসমূহ, গত ১৬ মার্চ টেক্সাসে আয়োজিত Lunar and Planetary Conference-এ তুলে ধরা হয়।

এর আগে মঙ্গলের মাটিতে এমন রত্নের খোঁজ মেলেনি। তবে পৃথিবীতে যেভাবে চুনির সৃষ্টি, মঙ্গলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে সাধারণত টেকটোনিক পাতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অত্যধিক তাপ ও চাপ থেকে চুনির সৃষ্টি হয়। এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশও প্রয়োজন, যেখাবে সিলিকার মাত্রা হবে অতি সামান্য, বেশি মাত্রায় অ্য়ালুমিনিয়াম থাকতে হবে। পৃথিবীর মতো মঙ্গলে টেকটোনিক পাতের ওঠাপড়া নেই। তাই সেখানে উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ে ধূলিকণার সঙ্কোচন এবং পরিবর্তনের ফলেই চুনি সৃষ্টি হয়েছে বলে মত বিজ্ঞানীদের।

Lunar and Planetary Institute-এর অ্যালান ট্রেম্যান জানান, বিষয়টি জানতে পেরে চমকে গিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কোরান্ডামের কণা খুব ছোট, ০.২ মিলিমিটারের মতো। ছবি দেখে সেগুলি চুনি, না নীলা বোঝা অসম্ভব। তিনিও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগ্রহী।