নেপালের ধ্বংসলীলার জন্য কি চিন দায়ী? হিমবাহ ধসের কথা বেজিং আগে থেকে জানতে পেরেও কেন সতর্ক করল না নেপালকে? নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে প্রশ্নের মুখে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন চিন সরকারের ভূমিকা। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে উঠে এল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দিক।
নেপাল ও তাদের প্রতিবেশী দেশ চিনে হড়পা বান ও বন্যায় ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ খুইয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ । জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । তবে অনেকেরই আশঙ্কা , এই বিপর্যয় হঠাৎ করে ঘটা একটা ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, ও তার জেরে বরফ গলতে শুরু করা। এটাই কি তবে আসল কারণ?
apnews.com - এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত বুধবারের বিপর্যয়ের সঙ্গে বিশ্ব উষ্ণায়নকে সরাসরি যুক্ত করার সময় এখনও আসেনি। কিন্তু উন্নত ও উন্নয়নশীল য় দেশগুলিতে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব পড়ছে সরাসরি। কাঠমান্ডুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট-এর বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল apnews-কে জানিয়েছেন , “হিন্দু কুশ হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে এই ধরনের জটিল দুর্যোগ ঘটছে যা পাহাড়ের পাদদেশের জনগোষ্ঠী এবং বিনিয়োগকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।” গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফলে উঁচু পর্বতের বরফ গলতে শুরু করেছে। এর জেরেই ইদানিং কালে ভূমিধসের সংখ্যা বাড়ছে। প্রায়শই নামছে তুষারধস এবং তার জেরে বন্যা! সেই সঙ্গে তুষারধসের প্রভআবে কোনো নদীর স্বাভাবিক গতি আটকে আকস্মিক বন্যা ঘটাতে পারে।
গত বছর নেপালের একই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় নয়জনের প্রাণহানি ঘটে এবং বিরাট আর্থিক ক্ষতি হয়। বৃহত্তর একটু টাইম-ট্রাভেল করলেই মনে পড়বে, ২০১৩ সালের কেদারনাথ বন্যা, ২০২১ সালের চামোলি বিপর্যয় , ২০২৩ সালের দক্ষিণ লোনাক হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যা এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক ভূমিধস ও বন্যায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা। দুঃখের বিষয় নেপালের মানুষ গত বছরের বন্যার ধাক্কা সামলে উঠছিল, আর তারা পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার আগেই পরেরটি চলে এলো।
