নয়াদিল্লি: মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ সহজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র অন্দরে। কর্মীদের একাংশই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এই মুহূর্তে। বেসরকারিকরণ কোথায় গিয়ে থামবে, ভেবে কিনারা করতে পারছেন না তাঁরা। বিশেষ করে রকেট তৈরির দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, রকেট, স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ISRO-র কী ভূমিকা থাকবে আগামী দিনে? (ISRO Privatisation Concern)

Continues below advertisement

ইতিমধ্যেই ISRO থেকে দলে দলে লোকজন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন। এখন জানা যাচ্ছে, ISRO-র চেয়ারম্যান তথা মহাকাশ বিভাগের সচিব ভি নারায়ণনকে চিঠি লিখেছেন কর্মীদের একাংশ। সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি নিয়ে স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন তাঁরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর GSLV F-17/EOS-05 স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ করে ISRO. আর তার পরই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ISRO-র কর্মীদের একাংশ। (ISRO News)

আরও পড়ুন: আকাশে ওড়ার আগেই চুরমার রকেট, তীব্র বিস্ফোরণ হার মানাল চেরনোবিলকেও, মাটি কাঁপল ১৬০০ কিলোমিটার দূরেও

Continues below advertisement

ISRO-র বিভিন্ন বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের সই রয়েছে ওই চিঠিতে। চিঠিতে সই রয়েছে ISRO Staff Association, ISAC Employees Association, ISRO Staff Association-LPSC, ISRO Staff Association-BBU, NRSA Employees Union, Space Employees Association-BBU, ISRO Staff Association-IPRC, SAC Employees Welfare Association-এর কর্মীদের। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান পবনকুমার গোয়েঙ্কা সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেন, “একটা সময় ISRO আর লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। বেসরকারি এবং রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থাগুলি ওই কাজ করবে।” ইতিমধ্যেই Small Launch Vehicle তৈরির দায়িত্ব বাইরের সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে Polar Satellite Launch Vehicle তৈরির বরাতও দেওয়া হতে পারে বেসরকারি সংস্থাকে। সেই নিয়ে অবস্থান জানতে চাইছেন ISRO-র কর্মীরা।

পাঁচ পাতার ওই চিঠিতে ISRO-র কর্মীরা জানিয়েছেন, ১২০টি প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা নানা মন্তব্য করছেন সংবাদমাধ্যমে। অথচ সরকারি ভাবে কর্মীদের কিছু জানানো হচ্ছে না। স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে না অবস্থান। কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানানো হচ্ছে না কিছুই। এতে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন কর্মীরা। তাঁদের পরিবারের লোকজনও চিন্তিত। ফলে গবেষণা থেকে দৈনন্দিন কাজকর্মেও তার প্রভাব পড়তে পারে। 

আরও পড়ুন: হঠাৎ জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি, আকাশ ছুঁল ছাইমেঘ, ৩০০-র বেশি বিমান বাতিল, উদ্বেগ বাড়ছে ইন্দোনেশিয়ায়

২০২০ সাল থেকেই মহাকাশ গবেষণায় জগতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে জায়গা করে দিতে সচেষ্ট কেন্দ্র। বলা হচ্ছে, গবেষণামূলক কাজকর্ম, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে নিযুক্ত থাকবে ISRO. নকশা তৈরি, উৎপাদন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত কাজকর্ম তুলে দেওয়া যাতে পারে বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে। কিন্তু ISRO-র কর্মীদের যুক্তি, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বেসরকারি সংস্থাকে নিযুক্ত করা যেতেই পারেয কিন্তু ISRO-র নিজস্ব কাজকর্ম বাইরের সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া সঠিক নয়।