নয়াদিল্লি: ভারতের আকাশেও এবার মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে। সূর্যের বুকে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই বিস্ফোরণের আঁচ লাগতে পারে পৃথিবীর গায়েও। আর তাতেই রঙিন আলোর নাচ দেখা যেতে পারে ভারত থেকে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবারই ভারতের আকাশে মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে। (Massive Sun Explosion)

Continues below advertisement

বেশ কিছু দিন ধরেই বড্ড অস্থির হয়ে পড়েছে সৌরজগতের অভিভাবক। সপ্তাহভর ছটফট করছিল সূর্য। ঘন ঘন আগুন উগরে দেয়। আতসবাজির মতো ধেয়ে আসছিল সৌরশিখা। চারিদিক ঢেকে দেয় চৌম্বকধর্মী গ্যাসের মেঘ। সেগুলির একটিও পৃথিবীকে ছুঁতে পারেনি। বরং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। (Aurora in India)

তবে শনিবার সকাল থেকে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় আস্ফালন। আর তার পরই প্রমাদ গোনা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের বুকে যে 4461 অ্যাক্টিভ রিজিয়ন রয়েছে, সেখানেই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখান থেকে নির্গত সৌরশিখার তীব্রতা ছিল M1.8, যা তীব্রতার নিরিখে মাঝারি মাপের সৌরশিখা। সূর্যের বুকে তীব্র বিস্ফোরণ এবং তার জেরে নির্গত বিকিরণই সৌরশিখা। চৌম্বকীয় শক্তির বিস্ফোরক নিঃসরণের ফলে সৌরশিখার সৃষ্টি হয়। তবে এবারে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা থেকে যে সৌরশিখা বেরিয়ে এসেছে, তা সব দিক থেকেই আলাদা। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: 'ডাকাতটাকে পুলিশমন্ত্রীর উপর ছেড়ে দিন, ঠিক করার দায়িত্ব আমার', কাকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর?

মহাকাশের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখেন যে বিজ্ঞানীরা, তাঁরা জানিয়েছেন, মূল যে সৌরশিখাটি ছিটকে এসেছে, সেটি অত্যন্ত ঘন, অতি চুম্বকীয় এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন। ওই শক্তিশালী ওই সৌরশিখা এই মুহূর্তে সরাসরি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে।  সৌরজগতের অন্তঃস্থল পার হয়ে, সেকেন্ডে ১৪০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসছে। সোমবার সেটি পৃথিবীর গায়ে এসে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

আমেরিকার মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা SWPC ২৪ ঘণ্টা সূর্যের উপর নজরদারি চালায়। তারা G3 অর্থাৎ শক্তিশালী, ভূচৌম্বকীয় শক্তিসন্পন্ন সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের প্রকোপে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে সাময়িক ভাবে বেসামাল হতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে সৌরশক্তি সরাসরি আঘাত হানে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উপর। এই মুহূর্তে চরম সতর্কতা NASA-র অন্দরে। মেরুজ্যোতির ছবি তোলেন যাঁরা, তাঁরাও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। 

আরও পড়ুন: শ্যামাপ্রসাদের সুউচ্চ মূর্তি তৈরি হবে রাজ্যে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, কত উঁচু, কোথায় বসবে?

সূর্যের যে 4461 অ্যাক্টিভ রিজিয়নে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটির চৌম্বকীয় ক্ষেত্ররেখাগুলির আকার ছিল ইংরেজির S-এর মতো প্যাঁচানো। চৌম্বকীয় ক্ষেত্ররেখা যত প্যাঁচানো হয়, ততই বেশি শক্তি মজুত থাকে ভিতরে। সেই শক্তি যখন নির্গত হয়, তা অনেক বেশি আগ্রাসীও হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এবারের সৌরশিখাটির এক্স রে ফ্লেয়ার তীব্রতর হয়ে ওঠে শনিবার, ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১টা বেজে ৪০ মিনিটে। এই এক্স রে ফ্লেয়ার আসলে এক্স রে বিকিরণ, সৌর বিস্ফোরণের সময় নির্গত হয়, যা পৃথিবীতে রেডিও কমিউনিকেশনেও বিঘ্ন ঘটায়। পাশাপাশি, এই বিস্ফোরণের ফলে প্রতি সেকেন্ডে মহাকাশে ১ বিলিয়ন টন ওজনের চৌম্বকীয় প্লাজমা ছড়িয়ে দিয়েছে, যার গতিবেগ সেকেন্ডে ১৪০০ কিলোমিটার।  সেই মেঘই এই মুহূর্তে পৃথিবীর দিকে ধাবমান। 

ওই মেঘ পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে না। কারণ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে ছাতার মতো ঢেকে রেখেছে। তবে কতটা শক্তিতে আছড়ে পড়বে ওই সৌরকণার স্রোত আছড়ে আছড়ে পড়বে, তার উপর নির্ভর করছে কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র। তীব্রতার নিরিখে সৌরঝড়ের মাপকাঠি রয়েছে G1 থেকে G5-এর মধ্যে। G1-এর অর্থ সামান্য, G5 হলে গুরুতর। G5 তীব্রতার সৌরঝড় বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ২০২৪ সালের মে মাসে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবারের সৌরঝড়টিকে G3-র গোত্রে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ শক্তিশালী। এক্ষেত্রে মেরুজ্যোতি মেরু অঞ্চল থেকে নীচে নেমে আসে। উত্তর ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল, মধ্য ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কিছু অঞ্চল থেকে দেখা যেতে পারে। রাতের আকাশে সবুজ, বেগুনি, লাল রংয়ের নাচ দেখতে পাবেন সকলে। তবে সোমবার রাতে আকাশ কতটা কালো থাকে, তার উপরই সব কিছু নির্ভর করছে।

দূষণমুক্ত জায়গা থেকে মেরুজ্যোতি সবচেয়ে ভালভাবে দেখা যায়। ভারতে লাদাখের হানলে ডার্ক স্কাই রিজার্ভ, প্যাংগং হ্রদ, নুব্রা ভ্যালি থেকে ভাল দেখা যেতে পারে। সৌরকণার সবুজ এবং বেগুনি রংয়ের আলোর নাচ দেখা যেতে পারে সেখানকার আকাশে। অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং, কার্গিলের দ্রাস থেকেও ভাল ভাবে দেখা যায় মেরুজ্যোতি।