নয়াদিল্লি: পর পর বিস্ফোরণের শব্দ। আর তার পরই আগুনের ফোয়ারা। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ঢেকে দিল চারিদিক। এভাবেই সোমবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটল ইতালির মাউন্ট এটনায়। মুহূর্তের মধ্যে গরম ছাই উড়ে এল, আগ্নেয়গিরির ঢাল বেয়ে নেমে এল গলিত লাভার স্রোত। একেবারে নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রকৃতির শক্তির সাক্ষী হলেন দলে দলে মানুষ। (Mount Etna Erupts)
ইতালিতে আগ্নেয়গিরির উপর নজরদারি চালানো সরকারি সংস্থা মাউন্ট এটনার অগ্ন্যুৎপাতের খবরে সিলমোহর দিয়েছে। জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাত এখনও পর্যন্ত সিসিলি দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানেও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর নেই। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রধান জ্বালামুখ থেকে নির্গত উষ্ণ গ্যাস, ছাই এবং পাথর মিশে ভয়ঙ্কর লাভার স্রোত নেমে আসছে। (Viral Video)
তবে এখনও পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রাণহানি বা সম্পত্তিহানির খবর নেই। এমনিতে মাউন্ট এটনা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবেই পরিচিত। ফলে সিসিলির বাসিন্দাদের কাছে অগ্ন্যুৎপাত নতুন কোনও ঘটনা নয়। তাঁরা সমসময়ই প্রস্তুত থাকেন। তাই উদ্ধারকার্যের প্রয়োজনও পড়ছে না এই মুহূর্তে।
প্রায়শই গর্জে ওঠে এই মাউন্ট এটনা। তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, ধোঁয়ার কুণ্ডলী এত উচ্চত ছুঁয়ে ফেলে যে, বিমান পরিবহণে প্রভাব পড়ে কখনও কখনও। তবে সোমবার থেকে নিকটবর্তী ক্যাটানিয়া বিমানবন্দরের পরিষেবা স্বাভাবিকই রয়েছে। কিন্তু হাওয়ার দাপটে জ্বালামুখ থেকে নির্গত পদার্থ লোকালয়ে গিয়ে পড়লে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলছে।
পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনা। সেটিকে Stratovolcano-ও বলা হয়। অর্থাৎ শঙ্কু আকৃতির আগ্নে.গিরি, যা হাজার হাজার বছর ধরে জমা হওয়া লাভা নির্গমনের ফলে তৈরি হয়েছে। প্রায় সারাক্ষণই সক্রিয় থাকে মাউন্ট এটনা। তবে সাধারণত, অল্প ধোঁয়া, ছাই বের হয়, এত তীব্রতায় অগ্ন্যুৎপাত ঘটে না সারা বছর।
মাউন্ট এটনা ইতালির অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রও। সিসমিক সেন্সর, স্যাটেলাইটের তোলা ছবি এবং ড্রোন ফুটেজের মাধ্যমে এই মুহূর্তে নজরদারি চলছে।