ওয়াশিংটন: মানবজাতিকে ফের চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বহু প্রতীক্ষিত আর্টেমিস-৩ (Artemis III) অভিযানের জন্য চার সদস্যের মহাকাশচারী দলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নাসার মতে, এটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম জটিল মহাকাশ অভিযান হতে চলেছে।

Continues below advertisement

চার সদস্যের এই ক্রুতে থাকবেন নাসার কমান্ডার র‍্যান্ডি ব্রেসনিক , ইএসএ-র মহাকাশচারী ও পাইলট লুকা পারমিতানো এবং নাসার মিশন স্পেশালিস্ট আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও । তাঁদের সঙ্গে থাকবেন নাসার ব্যাকআপ ক্রু সদস্য রবার্ট হাইন্স । লুকা পারমিতানো ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার একজন মহাকাশচারী, যিনি আর্টেমিস III-এর পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পারমিতানো ছিলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সর্বপ্রথম ইতালীয়কমান্ডার।  ৯ জুনের এক সংবাদ সম্মেলনে পারমিতানো বলেন, 'যদি আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি, তার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কৃতজ্ঞ যে নাসা আমাকে এই দলে, এই ক্রু-এর অংশ হওয়ার এবং চাঁদের কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।' 

২০২৭ সালকে লক্ষ্য করে নাসার চন্দ্রাভিযানের এই পরবর্তী পর্যায়ে স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিন নির্মিত এক বা একাধিক বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডার পরীক্ষা করার জন্য মহাকাশচারীদের পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানো হবে। যদি কক্ষপথীয় পরীক্ষাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তবে তা পরবর্তী অভিযান, আর্টেমিস ৪-এর পথ প্রশস্ত করবে, যা ২০২৮ সালে ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আমেরিকানদের চাঁদে অবতরণ করাবে। তবে অবশ্যই যদি সব ঠিক থাকে, সেক্ষেত্রে নাসা তার সর্বশেষ আর্টেমিস সময়সূচী মেনে চলবে। 

Continues below advertisement

২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে পরিকল্পিত এই মিশনে মহাকাশচারীরা ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছবেন। সেখানে তারা স্পেসএক্স (SpaceX) এবং ব্লু অরিজিনের (Blue Origin) তৈরি চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে ডকিং ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালাবেন। ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানোর আগে এই পরীক্ষাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নাসা।

প্রথমে আর্টেমিস-৩ মিশনকে চাঁদে অবতরণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং মহাকাশযান উন্নয়নের সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ায় নাসা মিশনের রূপরেখায় পরিবর্তন আনে। এখন এই অভিযান মূলত পৃথিবীর কক্ষপথে জটিল মহাকাশযান সংযোগ এবং সিস্টেম পরীক্ষার উপর গুরুত্ব দেবে।

নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই প্রকল্পকে মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন যুগের সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, একাধিক মহাকাশযান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ সংস্থাগুলির অংশগ্রহণের ফলে এটি মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠবে।

নাসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৩ মিশনের সফলতার উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের আর্টেমিস-৪ অভিযান। সেই মিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো আবার মানুষকে চাঁদের মাটিতে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।