নয়া দিল্লি: প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ফের চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষ নিয়ে অভিযান করতে চলেছে। শেষ অ্যাপোলো অভিযানের ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর, নাসা মানুষকে আবার গভীর মহাকাশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার যাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারিগরি জটিলতার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে গেলেও, ১ এপ্রিল (আমেরিকার সময়) এই যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

Continues below advertisement

অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর নাসার মানববাহী চন্দ্রাভিযান বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় অ্যাপোলোর নভোচারীদের আনা পাথর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে চাঁদে জল নেই। ফলে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস অসম্ভব ছিল। 

১৯৭২ সালে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসার অ্যাপোলো প্রকল্প শেষ হয়েছিল। তার আগেই চাঁদে পা রেখেছিলেন মহাকাশচারী। এই অভিযান সফল হলে প্রায় ৫৩ বছর পরে চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা। তবে তিন ধাপে এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা। দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস ২-তে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে বেরোবেন এবং চাঁদের কাছাকাছি যাবেন। তাঁরা চাঁদের কাছে এক বার পাক খেয়ে (হাই-স্পিড লুপ) ফিরে আসবেন তাঁরা। এর পর তৃতীয় ধাপ আর্টেমিস-৩ মহাকাশচারীদের নামাবে চাঁদের মাটিতে।

Continues below advertisement

কোথায় দেখা যাবে?

নাসার সরকারি ইউটিউব চ্যানেল, সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। আমেরিকার ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম যখন হবে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট, তখন থেকেই শুরু হবে সময় গোনা। ভারতে তখন রাত প্রায় ১০টা। ১ এপ্রিল, বুধবার আমেরিকার ফ্লরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ হবে ওরিয়ন মহাকাশযান। সে সময় ফ্লরিডার ঘড়িতে বাজবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম)। ভারতে তখন ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টে। 

চার মহাকাশচারী পাড়ি দিচ্ছেন এই অভিযানে। কারা তাঁরা?রিড ওয়াইসম্যান (কমান্ডার): প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট। ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): নাসার ক্রু-১ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন। ক্রিস্টিনা কচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ): মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন। জেরেমি হানসেন: কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী। প্রথম বার মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন।