ওয়াশিংটন: ফের অনিশ্চয়তা। ১৬ মার্চ পৃথিবীতে ফেরার কথা ছিল দুই মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়মস এবং ব্যারি বুচ উইলমোরের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফের মিশন বাতিল হওয়ায়, আপাতত বিশ বাঁও জলে পৃথিবীতে ফেরা।
নাসার তরফে জানান হয়েছে শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ায় উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকতে, স্পেসএক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটের উৎক্ষেপণ স্থগিত করেছে। এই রকেটটিতে চারজন মহাকাশচারীর ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যাওয়ার কথা ছিল এবং সুনীতাদের এটি চেপেই দিরে আসার কথা ছিল।
নাসা এবং স্পেসএক্সের মতে, নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স 39A-তে ফ্যালকন 9 রকেটের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ক্ল্যাম্প আর্ম সহ হাইড্রোলিক সিস্টেমের সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সংস্থার ক্রু-10 মিশনের উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা তারা বাতিল করেছে।
তবে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আরেকটি লঞ্চ উইন্ডো আছে। যদি স্পেসএক্স তাদের এই হাইড্রোলিক্সের সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারে, তাহলে ফ্যালকন-9 রকেট লঞ্চটি এই সপ্তাহেও চালু করা যেতে পারে।
প্রথমে বোয়িং স্টারলাইনার এয়ারক্র্যাফট পাঠিয়ে সুনীতাদের কথা ছিল। তবে এই রকেটে যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ায় আর ফিরতে পারেননি তাঁরা। সেকথা মাথায় রেখেই এবার স্টারলাইনারের বদলে ভরসা রাখা হয়েছিল ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের উপর। এই সংস্থার ক্রিউ-১০’এ চড়ে তাঁরা ফিরবেন, এমনটাই জানান হয়েছিল নাসার তরফে।
এদিকে, প্রায় ১০ মাস ধরে মহাকাশে কাটানো সুনীতারা পৃথিবীতে ফেরার পর বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে চলেছেন। সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এখানকার মাটিতে পা দিয়ে হাঁটে চলার কাজটি। নাসার প্রাক্তন মহাকাশ বিজ্ঞানী লেরস চিয়াও জানিয়েছেন মহাকাশ থেকে সুনীতারা যখন পৃথিবীর মাটি পা দেবেন তখন তাদের পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে একেবার নতুন জন্ম নেওয়া একটি শিশুর মতো।
পায়ের যে শক্ত চামড়ার উপর মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে বা হাটাচলা করে সেখানে এখন সুনীতাদের পায়ের পাতার চামড়া একেবারে তুলোর মতো নরম হয়ে গিয়েছে। তাই তারা পৃথিবীতে এসেই হাঁটতে পারবে না। এখানেই শেষ নয়, পায়ের পাতার বহু কোষ বর্তমানে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। সেগুলি পৃথিবীর আকর্ষণ না পেলে সক্রিয় আকার ধারণ করবে না।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে