নয়াদিল্লি: মাটি ছোঁয়ার কথা ছিল চাকার। পরিবর্তে মাটি ছুঁল বিমানের দেহ। ভস্মীভূত হয়ে গেল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র একটি বিমান। আগামী চন্দ্রাভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু সেটির আর অস্তিত্বই রইল না। (NASA Plane Crash)
বেশি উচ্চতা দিয়ে উড়তে সক্ষম, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত, NASA-র WB-57 বিমানটি ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার হিউস্টনের এলিংটন ফিল্ডে অবতণের সময় ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যাতে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যেতে দেখা গিয়েছে NASA-র ওই বিমানটিকে। (Artemis 2 Mission)
Houston Air Watch-এর তরফে দুর্ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, বিমানের চাকাগুলি আকাশের দিকেই উঠে রয়েছে। শেষ মুহূর্তেও সেগুলিকে মাটির দিকে নামল না। আর তার পরই তীব্র শব্দে মাটি ছুঁল বিমানের পেট। সেই অবস্থায় , ঘষটাতে ঘষটাতেই বেশ কিছু দূর এগিয়ে গেল শরীরটি। কিন্তু তত ক্ষণে আগুন গ্রাস করে নিয়েছে বিমানটিকে।
যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই বিমানটির চাকা মাটি ছোঁয়নি বলে জানা গিয়েছে। NASA জানিয়েছে, বিমানের কর্মীরা সকলে সুরক্ষিত রয়েছেন। নিরাপদে বিমান থেকে তাঁদের বের করে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, এখনও খুঁটিনাটি সামনে আসেনি। NASA-র মুখপাত্র বেথ্যানি স্টিভিন্স জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
NASA-র কাছে তিনটি WB-57 বিমান রয়েছে, যা Martin B-57 Canberra-রই প্রজাতি। ১৯৫৩ সালের আমেরিকার বায়ুসেনার জন্য ওই বিমান তৈরি করা হয় প্রথমবার। অতি উঁচু থেকে বোমা নিক্ষেপ করতে সক্ষম ছিল ওই বিমান। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় B-57 যুদ্ধবিমানের ব্যপক ব্যবহার চোখে পড়ে। একেবারে ৬৩ হাজার ফিট বা ১৯ কিলোমিটার উপর দিয়ে উড়তে পারে ওই বিমান। বোমা নিক্ষেপ করতে পারে ৪০০০ কিলোমিটার দূরেও।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই WB-57 বিমানটিকে সূর্যের গতিপথ পর্যবেক্ষণে পাঠায় NASA. সূর্যের বাইরের অংশের উপর নজরদারি চালায় সেটি। অত্যাধুনিক ক্যামেরা নিয়ে আকাশে ওড়ে এবং সূর্যের বহির্মণ্ডলের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ছবি তুলে আনে। পাশাপাশি, NASA-র একাধিক রকেটের উপরও নজরদারি চালিয়েছে WB-57. ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়াতেই চাঁদের উদ্দেশে যে Artemis 2 রকেট পাঠাচ্ছে NASA, সেটির উড়ানও পর্যবেক্ষণের কথা ছিল বিমানটির। তার ঠিক আগেই এই দুর্ঘটনা। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি NASA-র চন্দ্রাভিযানের দিন ঠিক হয়েছে আপাতত।