নয়াদিল্লি: একেবারে চোখের পলকে সব শেষ। হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। প্রতি মুহূর্তে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ, যার মধ্যে অধিকাংশই পর্যটক। এমনিতে বিপর্যয় প্রবণ দেশ হিসেবেই পরিচিত নেপাল। কিন্তু এক বড় বিপর্যয় ঘটল কী কারণে? তার সম্ভাব্য কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, তুষার ও পাথরের ধসেই এত বড় বিপদ ঘটে থাকতে পারে। (Nepal Floods)

Continues below advertisement

বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসে। তিব্বতের ভাটি অঞ্চল থেকে রাসুয়ায় হঠাৎই আঘাত হানে হড়পা বান। ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর নদী হয়ে বিপুল জলরাশি, পলি, কাদা এবং বড় বড় পাথরখণ্ড তীব্র বেগে আছড়ে পড়ে লোকালয়ে। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় সেই তাণ্ডবলীলা দেখে শিউরে ওঠে গোটা বিশ্ব। এর পর আবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপালের মাটি। (Nepal Disaster)

আরও পড়ুন: নেপালে ঘুরতে গিয়ে আপনার পরিবারের কেউ আটকে পড়েছে ? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে খুলেছে কন্ট্রোল রুম, রইল হেল্প লাইন নাম্বার

Continues below advertisement

হিন্দুকুশ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল রক্ষার্থে চিন এবং নেপালের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা আন্তঃসরকারি সংস্থা  ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভলপমেন্ট (ICIMOD) জানিয়েছে, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তুষার এবং পাথর ধসের দরুণই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। বুধবার সন্ধেয় বিবৃতি দিয়ে ICIMOD বলে, ‘ভিডিও ফুটেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক যে মূল্যায়ন করা গিয়েছে, তা থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা যে, বিপুল পরিমাণ তুষার এবং পাথরের ধসে এসে ভোটেকোশী নদীর উপনদী লেন্ডে খোলায় পড়ে। এর ফলেই নেমে আসে হড়পা বান এবং জল, কাদা এবং বিরাট বিরাট পাথর আছড়ে পড়ে লোকালয়ে’।

আরও পড়ুন: নেপালে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর, খোঁজ মিলছে না ১৩৩ জন ভারতীয় পর্যটকের

হড়পা বানের সময় ভূকম্পনেও অস্বাভাবিক সঙ্কেত চিহ্নিত করা গিয়েছে। তবে তার সঙ্গে হড়পা বানের কোনও প্রত্যক্ষ সংযোগ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ICIMOD-এর জলবায়ু এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং বলেন, ‘গতবছর রাসুয়ার যে এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবারও সেখানেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। তুষারধসের কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত সিলমোহর পড়েনি। নেপাল এবং চিন সীমান্তে উজানের অভিমুখ এখনও পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকায়, দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে কারণে খালি করতে বলা হয়েছে জিলং বন্দর এলাকা’।

তুষারাবৃত পর্বত বা ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে যখন অত্যধিক ওজনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং নীচের দিকে গড়িয়ে যায়, তাকেই তুষারধস বলা হয়। বুধবার বিপর্যয়ের সময় হড়পা বানের গতি এবং তীব্রতাও অত্যধিক ছিল বলে জানিয়েছে ICIMOD. তাদের দাবি, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছিতে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর ৯ মিটারে পৌঁছে যায়। মালেখুতে জলস্তর বেড়ে হয় ৭ মিটার। গালছি এবং মালেখু কাঠমান্ডু থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধাদিং জেলার অংশ। 

বর্তমানে নদীর সঙ্কীর্ণ অংশে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে, যা বাঁধের আকার ধারণ করেছে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে নদী। বিজ্ঞানীদের মতে, হঠাৎ করে জল ছাড়লে ওই বাঁধ থেকে ফের বন্যা নেমে আসতে পারে।

গতকাল নেপালে ৪.৪ তীব্রতায় ভূমিকম্পও হয়। তবে ভূমিকম্পের দরুণ হড়পা বান নেমে আসেনি, বরং তুষার এবং পাথর ধসের জেরেই মাটি কেঁপে ওঠে বলে মনে করছে আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে। তাদের মতে, তুষার গলেই ওই বিপুল জলরাশি আছড়ে পড়ে। হিমবাহ হ্রদ ফাটার তত্ত্বও উড়িয়ে দিয়েছে তারা।