নয়াদিল্লি: সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান মিলল এবার। রিপাবলিক অফ কঙ্গোর জঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল এতদিন। নতুন প্রজাতির এই বানরদের ঠোঁটের রং কমলা। গত ৭৫ বছরে এই নিয়ে আফ্রিকার জঙ্গল থেকে পাঁচটি নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান মিলল। (New Monkey Species)

Continues below advertisement

কমলা ঠোঁটের নতুন এই বানর প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে Colobus Congoensis. স্থানীয়রা কাছে তারা পরিচিত Likweli নামে। বুধবার PLOS ONE জার্নালে নতুন প্রজাতির এই বানর আবিষ্কারের বিশদ ব্য়াখ্য়া রয়েছে। এই বানর প্রজাতি অন্য প্রজাতিগুলির থেকে কেন আলাদা, তাও তুলে ধরা হয়েছে বিশদে। (Monkey with Orange Lips)

আরও পড়ুন: ISRO ছাড়ছেন দলে দলে বিজ্ঞানীরা, ১০০-র বেশি পদত্যাগী, স্বেচ্ছাবসরও নিচ্ছেন অনেকে, এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র

Continues below advertisement

ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক গ্র্যাজুয়েট সেন্টারের গবেষকরা জানিয়েছেন, এই নতুন প্রজাতির বানরের শরীর চকচকে কালো এবং দীর্ঘ রোমে ঢাকা। তাদের লেজ দেখতে ঝাড়ুর মতো। মুখের চারপাশে কমলা এবং ক্রিম রংয়ের দাগ রয়েছে। বানরদের ঠোঁট দু’টি কমলা রংয়ের। 

আফ্রিকার অন্য Colobus বানরের চেয়ে কোথায় আলাদা Colobus Congoensis, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, এদের মাথার খুলি, দাঁত এবং কঙ্কাল অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং স্বতন্ত্র। অন্যদের চেয়ে আকারেও ছোট এরা। ওজ মাত্র ৬.৮ কেজি। 

চার্লস ই স্মিডট কলেজ অফ সায়েন্সের অধ্যাপক এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কেট ডেটউইরাল জানিয়েছেন, Colobus Congoensis নামের নতুন যে বানর প্রজাতির সন্ধান মিলেছে, তারা বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা বদলে দিতে পারে। এদের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রজাতি Colobus Satanas, যাদের সন্ধান পাওয়া যায় ১২০০ কিলোমিটার দূরের পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকায়। আজ থেকে ৪০-৫০ লক্ষ বছর আগে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নতুন প্রজাতির এই বানরগুলির বিবরণ দেওয়ার কাজ শুরু হয় ২০০৮ সালে। অদ্ভুত দেখতে এই বানরগুলির একটি ছবিকে ঘিরেই সেই কাজের সূচনা। তার পর ১০ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দর্শন মেলে ১১৪ বার। শরীরের আকার-প্রকারের পাশাপাশি, তাদের জিন নিয়েও চলে গবেষণা, যাতে বোঝা যায় আগে তাদের সন্ধান মেলেনি। 

গবেষণা চালাতে গিয়ে দেখা যায়, এই নতুন প্রজাতির বানরদের গতিবিধি ১৭০০ বর্গ কিলোমিটারের মধ্য়েই সীমিত। তাই তাদের ‘বিপন্ন' প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবিও তোলা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: https://journals.plos.org/plosone/article?id=10.1371/journal.pone.0349857#sec001