নয়াদিল্লি: কাক কাকের মাংস খায় না বলেই প্রচলিত। এদিক ওদিক হয় না যে, তা একেবারেই নয়। কিন্তু সাপেদের মধ্যে ‘জাতভাই’কে খেয়ে ফেলার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০-র বেশি প্রজাতির সাপের মধ্যে এমন প্রবণতার সন্ধান মিলল। (Cannibalism in Snakes)

Continues below advertisement

বিবর্তনের ইতিহাসে সাপেদের মধ্যে ‘জাতভাই’কে খেয়ে ফেলার নিদর্শন রয়েছে একাধিক। কিন্তু পৃথক ভাবে বিভিন্ন প্রজাতির সাপেদের ১০০ বছরের বিবর্তনের ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে চমকে গিয়েছেন গবেষকরা। তাতে দেখা গিয়েছে, সাপেদের মধ্যে ‘জাতভাই’কে খেয়ে ফেলার প্রবণতা অন্তত পক্ষে ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। (Reptile's Survival Strategy)

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর বায়োলজিক্যাল রিভিউজ় জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপেদের মধ্যে ‘জাতভাই’কে খেয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ৫০০ রিপোর্ট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, একেবারে স্বাধীন ভাবেই সাপেদের মধ্যে এই প্রবণতা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। (Science News)

Continues below advertisement

গবেষকরা জানিয়েছেন, একাধিক পরিস্থিতিতে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তবে বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে পেট ভরানোর সুযোগ হাতছাড়া করা চলে না। ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলোর গবেষক ব্রুনা ফালচাও বলেন, “মানুষের জন্য নরমাংস ভক্ষণ সাধারণ ঘটনা নয়, বরং অদ্ভূত, ঘৃণ্য। কিন্তু সাপেদের কাছে এই প্রবণতা লাভজনক, শারীরিক দিক থেকেও।” 

প্রাকৃতিক ভাবে মাকড়শা এবং ম্যান্টিস পতঙ্গের মধ্যেই ‘জাতভাই’কে খেয়ে ফেলার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে ম্যান্টিস, সঙ্গমের সময় স্ত্রী ম্যান্টিস তার পুরুষ সঙ্গীকে খেয়ে ফেলে। এই অভ্যাস তাদের জন্য উপকারীও। কিছু ক্ষেত্রে মা নিজের ডিম খেয়ে ফেলে। আবার বড় সাপ ছোট সাপই খায় না, বড় আকাররে সাপও খেয়ে ফেলে।

জাতভাইদের খেয়ে ফেলা কোনও প্রজাতির জন্যই লাভজনক নয় বলে এতদিন বিশ্বাস ছিল বিজ্ঞানীদের। কিন্তু নয়া গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এতে বংশবিস্তার ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব দূর করা যায়। আবার এমন আচরণত স্রেফ সুযোগসন্ধানের পরিচায়কও হতে পারে। 

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার হাভিয়ার গ্লডাস এবং তাঁর সহযোগীদের দাবি, ফ্রান্সে পুরুষ ম্যালপোলন মনস্পেসুলানাস স্ত্রী সাপকে খেয়ে নেয়। বিশেষ করে মিলনের ঋতুতে খাদ্যাভাবের দরুণ এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তাদের মধ্যে। 

বিভিন্ন প্রজাতির ৫০৩ রিপোর্টের মধ্যে ২০৭ প্রজাতির সাপের মধ্যেই এই প্রবণতা পেয়েছেন গবেষকরা। বনেজঙ্গলে থাকা সাপ, খাঁচায় বন্দি সাপ,সকলের মধ্যেই এই প্রবণতা রয়েছে। তবে তিন প্রজাতির মধ্যে প্রবণতা সবচেয়ে বেশি- আন্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশে প্রাপ্ত Colubridae (৫০৩ রিপোর্টের ২৯%), আন্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, হাওয়াই, মাদাগাস্কার, মেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে প্রাপ্ত Viperidae (৫০৩ রিপোর্টের ২১%)এবং  ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রাপ্ত Elapidae (৫০৩ রিপোর্টের ১৯%). প্রথম দুই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে বন্দিদশাতে। Elapidae প্রজাতির মধ্যে গোখরোও। অন্য সাপ শিকার করার জন্য বরাবরই পরিচিত তারা।