নয়াদিল্লি: কারও পৌষ মাস, তো কারও সর্বনাশ। পিঁপড়ে এবং ডায়নোসরের সম্পর্ক ব্য়াখ্য়া করতে বাংলার এই প্রবাদটিই সর্বোত্তম হয়ে উঠছে। কারণ ডায়নোসরের বিলুপ্তি না ঘটলে পিঁপড়েদের এত বাড়বাড়ন্ত হতো না বলে উঠে এল নয়া গবেষণায়। আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে প্রকাণ্ড গ্রহাণু আছড়ে পড়ে পৃথিবী থেকে ডায়নোসরদের অস্তিত্ব মুছে গিয়েছিল। আর তাতেই পিঁপড়েদের সাম্রাজ্য ফুলেফেঁপে ওঠে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। (Ant Evolution)
জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ মুনস্টারের ইনস্টিটিউট অফ এভলিউশন অ্যান্ড বায়োডাইভারস্টিটির গবেষণায় এই তথ্য় উঠে এসেছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন লুকাস শ্রেডার। তাঁরা জানিয়েছেন, ১৪-১৭ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভাব পিঁপড়ের। ১৫ হাজারের বেশি প্রজাতির পিঁপড়ের সন্ধান মিলেছে এখনও পর্ন্ত। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীতে তাদের যে আধিপত্য, ৭ কোটি বছর আগে তা ছিল না। গ্রহাণু আছড়ে পড়ে ডায়নোসর যুগের অবলুপ্তিত ঘটলে, পৃথিবীতে পিঁপড়ের আধিপত্য সূচনা ঘটে। (Science News)
আরও পড়ুন: বালুচিস্তানের যুবরাজকে অপহরণ করা হল, অপহৃত তাঁর দেহরক্ষীরাও, নেপথ্যে কে? তল্লাশি চলছে
‘Science Advances’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি। বর্তমান সময়ের ১৬টির মধ্যে ১২টি পিঁপড়ে উপজাতির ১৬৩টি প্রজাতির জিনোম বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। পিঁপড়ের ১০ কোটি বছরের বিবর্তনীয় ইতিহাস পুনর্গঠন করেন তাঁরা। দেখা যায়, পিঁপড়ের DNA-তে যে স্থানান্তরযোগ্য উপাদান (Transposable Elements) রয়েছে, যাকে ‘জাম্পিং জিন’ বলা হয়, তার দ্বারা উপকৃত পিঁপড়েরা। সেগুলি DNA-এর এমন অংশ, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী জায়গা বদল করে এবং নিজেদের প্রতিলিপিও তৈরি করে। এতকাল যদি বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ওই উপাদান হয়ত কোনও ‘জিনোমিক পরজীবী’, যা কোনও উপকার করে না, বরং ভাইরাসের মতো রোগ সৃষ্টি করে।
তবে বর্তমানে ওই ‘জাম্পিং জিন’গুলিই বিবর্তনের উদ্ভাবনী শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, যে সব পিঁপড়ের জিনোমে বেশি সংখ্যক স্থানান্তরযোগ্য উপাদান রয়েছে, বংশ পরম্পরায় তাদের প্রজাতির বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বেশি। আজকের পিঁপড়েদের পূর্বপুরুষের শরীরে ঠিক কবে ওই স্থানান্তরযোগ্য উপাদানগুলির স্বতন্ত্র বিস্ফোরণ ঘটে, তাও চিহ্নিত করতে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণু আছড়ে পড়ে ডায়নোসরদের বিলুপ্তি ঘটার পর পৃথিবীতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যে বৃদ্ধি শুরু হয়, সেই প্যালিওজিন বা পুরাজীবীয় যুগের সূচনাপর্বেই পিঁপড়ের শরীরে নিহিত স্থানান্তরযোগ্য় উপাদানগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
লুকাস শ্রেডার জানিয়েছেন, গ্রহাণুর আঘাতে পরিবেশের উপর নাটকীয় প্রভাব পড়ে। পরিবেশের উপর নেমে আসা ওই বিপর্যয়ই স্থানান্তরযোগ্য় উপাদানগুলিকে সক্রিয় করে তোলে এবং পিঁপড়েদের বৈচিত্রায়নের রাস্তা খুলে দেয়। একই ধরনের প্রভাব চোখে পড়েছে বাদুড়ের ক্ষেত্রেও। হঠাৎই ‘জাম্পিং জিনে’র কার্যকলাপে বৃদ্ধি চোখে পড়ে। এই ‘জাম্পিং জিন’কে রাসায়নিক কার্যকারণে জিনের প্রসারের সঙ্গেও জুড়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গন্ধ বুঝে দিক নির্ণয় করতে শুরু করে তারা, বাসার সঙ্গীদের চিনতে শুরু করে এবং গড়ে তোলে উপনিবেশ। ওই বিপর্যয় থেকেই পিঁপড়েদের রাসায়নিক সঙ্কেত শনাক্ত করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বলে মত তাঁদের।
