নয়াদিল্লি: পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মেনেই নিল আমেরিকা। এই প্রথম মহাকাশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার  কথা স্বীকার করল তারা। কিন্তু মহাকাশে অস্ত্রশস্ত্র মজুতের প্রয়োজন পড়ল কেন? আমেরিকার স্পেস ফোর্স বা মহাকাশ বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করতেই মহাকাশে অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে মহাকাশে কী ধরনের অস্ত্রশস্ত্র মজুত রেখেছে তারা, তা খোলসা করেনি আমেরিকা। (Weapons in Space)

Continues below advertisement

আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের মতো দেশগুলি পৃথিবীর বাইরে মহাকাশেও যুদ্ধ পরিকাঠামো গড়ে তুলছে বলে জল্পনা বহু বছর ধরেই। এমনকি মহাকাশে পরমাণু বোমা পাঠানোর দাবিও সামনে এসেছে। এতদিন কোনও দেশের তরফেই সেই খবরে সিলমোহর দেওয়া হয়নি। এই প্রথম আমেরিকা মহাকাশে অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখার কথা মেনে নিল। US Space Force-এর মুখপাত্র সোমবার বলেন, “মহাকাশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, শত্রুপক্ষকে ঠেকানোর মতো অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন রয়েছে কক্ষপথে।” (US Space Force)

আরও পড়ুন: বিশুদ্ধ পানীয় জল সাংবিধানিক অধিকার নয়, বলল আমেরিকার আদালত

Continues below advertisement

মহাকাশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তারও ব্যাখ্যা পেশ করেছে আমেরিকা। তাদের দাবি, আক্রমণাত্মক এবং আত্মরক্ষা, এক্ষেত্রে দু’টি উদ্দেশ্যই প্রযোজ্য। আর আমেরিকার এই ঘোষণাতেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের নেপথ্য়ে রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার সংঘাত। পৃথিবীর বাইরেও চিন এবং রাশিয়াকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে আমেরিকা। 

আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর দাবি, শুধুমাত্র পৃথিবীতেই সামরিক শক্তির আধুনিকীকরণ ঘটাচ্ছে না চিন। মহাকাশ প্রতিরক্ষাও তাদের রণকৌশলের মধ্যে পড়ে। অন্য দিকে, রাশিয়াও মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবেই দেখে। তারা বিশ্বাস করে যে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নির্ণায়ক হয়ে উঠবে মহাকাশ। তাই সেখানে আধিপত্য বিস্তারে তৎপর দুই দেশই। যদিও চিন এবং রাশিয়া মহাকাশে অস্ত্রশস্ত্র মজুত করেছে বলে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমেরিকার ঘোষণার পর এখনও পর্যন্ত কিছু জানায়নি তারা। 

আরও পড়ুন: ২২ বছর আগে জমিয়ে রাখা ভ্রূণ থেকে জন্ম নিল ফুটফুটে শিশু, IVF-এর দুনিয়ায় নতুন মাইলফলক

তবে মহাকাশের এই সামরিকীকরণ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ১৯৫৭ সালে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন 'স্পুটনিক' উৎক্ষেপণ করার পর থেকেই, কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে অস্ত্রশস্ত্র হিসেবে ব্য়বহার করা এবং পৃথিবীর বাইরে শত্রুপক্ষের উপর আঘাত হানার উপায় বের করতে গবেষণা শুরু হয়। মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের ঝুঁকি বাড়তে থাকে ক্রমশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৯৬৭ সালে মহাকাশ অস্ত্রচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যাতে মহাকাশে বিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় মহাকাশে সামরিক ঘাঁটি, পরিকাঠামো স্থাপন, সামরিক মহড়াও। চাঁদ বা অন্য কোথাও এমন কিছু করা যাবে না বলে ঠিক হয়েছিল সেই সময়। তবে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা হয়নি ওই চুক্তিতে। কক্ষপথেই অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।