নয়াদিল্লি: সন্তানধারণে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখেননি। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করেছেন, IVF-ও করিয়েছেন দু’বার। তার পরও মা হতে পারছিলেন না তরুণী। সামান্য অ্যালার্জি ছাড়া তেমন কোনও সমস্যাও ধরা পড়েনি। কিন্তু তিন বছর পর শেষ পর্যন্ত মা না হতে পারার যে কারণ সামনে এল, তা কল্পনাও করতে পারেননি ওই তরুণী। বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন যে মহিলারা, তাঁদের জন্যও এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (Sperm Allergy and Infertility)

Continues below advertisement

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিশদ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই মা হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই তরুণী। দু’বার IVF-ও করিয়েছেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই মা হতে পারছিলেন না। বার বার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয় তাঁকে। মা না হওয়ার মতো তেমন কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি সেখানেও। তরুণীর সঙ্গীকে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তার উল্লেখ নেই রিপোর্টে। তবে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। (Infertility in Women)

আরও পড়ুন: ভবানীপুরে ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ মমতার, EVM, VVPAT, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

Continues below advertisement

স্পার্ম অ্যালার্জি কী?

গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, ওই তরুণীর হাঁপানির সমস্যা ছিল। ছিল অ্যালার্জির সমস্যাও। ছত্রাক, বিড়ালের রোম, ধুলোয় অ্যালার্জি ছিল তাঁর। ওই অ্যালার্জির জেরেই সন্তানধারণে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাতে যান। সেখানে রক্তপরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, ইওসিনোফিলের মাত্রা বেশি ওই তরুণীর শরীরে। ওইসিনোফিল এক ধরনের শ্বেতকণিকা, যা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান থেকে রক্ষা করে শরীরকে। ওই তরুণীর অণুজীব, আগাছা, পরাগরেণু, পোকামাকড়, কুকুরের শরীর থেকে নির্গত অ্যালার্জেনও সহ্য হতো না। বিশেষ করে ক্যানিস ফ্যামিলিয়ারিস অ্যালার্জেন ৫ (Can f 5) প্রোটিনের প্রতি সংবেদনশীল ছিলেন, যা মরা কুকুরের চামড়ার কণা এবং মূত্রে পাওয়া যায়। ওই Can f 5 প্রোটিন পাওয়া যায় পুরুষদের শুক্রাণুতেও। অর্থাৎ স্পার্ম বা শুক্রাণুতেও অ্যালার্জি রয়েছে ওই তরুণীর। তাঁর মা হতে না পারার নেপথ্যে এই অ্যালার্জির ভূমিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সুরাবর্দি-বিতর্কে মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী, বিধানসভায় বললেন, ‘মুঘল-পাঠানদের নাম থাকবে না’

বন্ধ্যাত্বের উপর স্পার্ম অ্যালার্জির প্রভাব

ওই তরুণী জানিয়েছেন, নিরোধক ছাড়া সঙ্গমের পর নাকবন্ধ হয়ে যেত তাঁর, হাঁচিও হতো। তিনিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, চিকিৎসকরাও সেই নিয়ে কাটাছেঁড়া করেননি। ওই তরুণীর আরও অ্যালার্জি টেস্ট হয়। তাঁর পুরুষ সঙ্গীর শুক্রাণুর নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। আর তাতেই দেখা যায় ওই তরুণীর Human Seminal Plasma Allergy রয়েছে, অর্থাৎ শুক্রাণুর তরল অংশ, যাতে স্পার্ম সেল থাকে, তাতে অ্যালার্জি তাঁর। গবেষকদের মতে, শুক্রাণুতে সংবেদনশীলতা মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এতে প্রজননের অঙ্গগুলিতে প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ওই শুক্রাণুজনিত অ্যালার্জির দরুণই তরুণীর IVF চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ যে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তাতে ওই শুক্রাণু থাকার কথা নয়। 

এক্ষেত্রে নিরোধক ব্যবহার অ্যালার্জি রোখার অন্যতম উপায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে গর্ভধারণ সম্ভব নয়। আপাতত অ্যালার্জি দূর করার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সেই চিকিৎসা এই মুহূর্তে নেই লিথুয়ানিয়া। তাই সাময়িক ভাবে সঙ্গমের আগে antihistamine ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাতেও সমস্যা দূর হয়নি। বরং জ্বালা ভাব, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, চোখে জল আসার মতো সমস্যা রয়েছে। আপাতত আর চিকিৎসাধীন নেই ওই তরুণী। এখনও পর্যন্ত গোটা পৃথিবীতে এমন ৮০টি শুক্রাণু-অ্যালার্জির ঘটনা সামনে এসেছে। সন্তানধারণের ক্ষেত্রে ঠিক কী প্রভাব পড়ছে, তা নির্ধারণের কাজ চলছে এখনও।