আইসিসি একদিনের মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ঐতিহাসিক জয় ভারতের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুরন্ত প্যারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারত। রবিবার রাতে ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে প্রোটিয়াদের ৫২ রানে পরাস্ত করার পর স্বভাবতই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য ৫১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেন BCCI সচিব দেবজিৎ সইকিয়া। পাশাপাশি তিনি এই জয়কে "একটি স্মরণীয় সাফল্য যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে যাবে" বলে মত প্রকাশ করেছেন।
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল দলের ঐতিহাসিক কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন, ভারতের ১৯৮৩ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন তিনি। সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে তিনি বলেন, 'ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য আজ এক স্মরণীয় দিন। ১৯৮৩ সালে পুরুষ দল যা অর্জন করেছিল, আজ মুম্বইতে ভারতীয় মহিলারা তা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এই ঐতিহাসিক জয় দেশের মহিলা ক্রিকেটকে এক বিরাট উৎসাহ দেবে এবং আমি নিশ্চিত যে আমাদের খেলা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।'
ফাইনালে ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধনা ও শেফালি বর্মা শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে শুরু করেন। বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শেফালি। স্কোয়াডেই ছিলেন না। সেমিফাইনালে প্রথমবার নেমে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কিন্তু ফাইনালে নিজেকে মেলে ধরেন। সেঞ্চুরির সুযোগও ছিল। কিন্তু ৭৮ বলে ৮৭ রানে থামে তাঁর ইনিংস। সাতটি বাউন্ডারি ও ২টো ছক্কা দিয়ে সাজানো ইনিংস। স্মৃতি তার আগেই ৪৫ করে ফেরেন। আগের ম্য়াচের ২ 'নায়ক' জেমাইমা ও হরমন বড় রান পাননি। তবে লোয়ার অর্ডারে দীপ্তি ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। রিচা ঘোষ তুলে নেন ৩৪ রান। শেষ পর্যন্ত ২৯৮ এ থামে ভারতের ইনিংস। মন্ধনা ও শেফালির শতরানের পার্টনারশিপ ভারতকে বড় টার্গেটের দিকে এগিয়ে দেয়। যদিও শেষ ২০ ওভারে রানের গতি অত্যন্ত স্লথ হয়ে গিয়েছিল। নইলে তিনশোর গণ্ডি পেরিয়ে যেত ভারত। এই রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে ময়দানে নেমে বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও নিজেদের সেরাটা দেন ভারতের মেয়েরা। শেষমেষ ৫২ রানে জয় পায় ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মহিলা ওয়ান ডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। গোট দেশ বিশ্বজয়ীদের নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছে। India beats South Africa