সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ক্রিকেটের টানে তাঁর বিহারের সাসারাম ছেড়ে বাংলায় পাড়ি দেওয়া। কলকাতা ময়দানে রগড়ানি। বাংলা দলে জায়গা করে নেওয়া। বাংলার জার্সিতে নজরকাড়ার পর ভারতীয় দলের দরজা খুলে যাওয়া। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের জোড়া টেস্ট জয়ের নেপথ্যেই রয়েছে তাঁর অবদান। একটি ম্যাচে দশ উইকেট। অন্য ম্যাচে ব্যাট হাতে ৬৬ রানের মহার্ঘ ইনিংস।
সেই আকাশ দীপকে (Akash Deep) বিশেষ সম্মান জানাল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি। শনিবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আকাশ দীপকে সংবর্ধিত করল সিএবি। ডানহাতি পেসারের হাতে স্মারক তুলে দিলেন ভারতীয় দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আকাশকে স্বীকৃতি জানাতে পেরে আপ্লুত সৌরভ। বলছিলেন, 'বার্মিংহামে ওর পাঁচ উইকেট নেওয়া দেখতে পারিনি বিমান সফর করছিলাম বলে। তবে আশা করেছিলাম ও পাঁচ উইকেট নেবে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে।'
ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর আকাশ এই প্রথম কলকাতায় এলেন। তবে ঝটিকা সফর। কারণ, শনিবার রাত সাড়ে ন'টার বিমান ধরে বেঙ্গালুরু উড়ে যাচ্ছেন আকাশ। বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যোগ দিতে। পুরস্কার নেওয়ার পর আকাশ বললেন, 'খুব ভাল লাগছে। ঘরে সম্মানিত হলাম, গর্বের বিষয়।'
ঘুরে ফিরে আসছে ইংল্যান্ড সফরের প্রসঙ্গ। বার্মিংহাম টেস্ট। আকাশ বললেন, 'এজবাস্টনে ১০ উইকেট নেওয়ার কথা ভেবে বল করিনি। নিজের ছন্দে বল করার উপর জোর দিয়েছি। জানতাম কোনও দিন ফল পাব, কোনও দিন পাব না। সেদিন পেয়েছি। সঙ্গে দল জিতেছে, সেটা বাড়তি আনন্দের।'
এজবাস্টনে বল হাতে ১০ শিকার, নাকি ওভালের হাফসেঞ্চুরি, কোনটা বেশি প্রিয়? আকাশ বলছেন, 'যে পারফরম্যান্স দলকে জেতাবে, সেটাই আমার প্রিয়। তাই ১০ উইকেট আর ৬৬ রান দুটোই আমার কাছে সমান। তবে আমি বোলার। তাই বল হাতে ম্যাচ জেতাতে পারলে বাড়তি ভাল লাগা কাজ করে।'
ইংল্যান্ড সফরের পর জীবন কতটা বদলেছে? আকাশের খোলামেলা জবাব, 'আমার জীবনে তেমন কোনও বদল আসেনি। সাফল্য বা ব্যর্থতা আমার উপর প্রভাব ফেলে না। লোকে হয়তো ভাবছে বদল এসেছে। আমার তেমন কিছু মনে হচ্ছে না।'
এশিয়া কাপের দলে নেই। আপাতত লাল বলের ক্রিকেটেই আকাশের নাম ভাবা হচ্ছে। আকাশ অবশ্য দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলাকেই পাখির চোখ করছেন। সে যে ফর্ম্যাটেই হোক না কেন। গাড়িতে ওঠার আগে বলে গেলেন, 'দেশকে ম্যাচ জেতাতে চাই। দেশের হয়ে লম্বা সময় খেলতে চাই।'