দুবাই: আসন্ন আইপিএলের আগেই খেতাব জয়ের পথে একধাপ এগোল নাইট রাইডার্স। না না কলকাতা নাইট রাইডার্স নয়, কথা হচ্ছে নাইট রাইডার্স (Abu Dhabi Knight Riders) ফ্র্যাঞ্চাইজির আরেক দল আবু ধাবি নাইট রাইডার্সের বিষয়ে। সপ্তাহান্তে ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা নাইটদের জন্য মরণ-বাঁচন ছিল। সেই ম্যাচে দুরন্ত জয়ে টুর্নামেন্টের প্লে-অফে পৌঁছে গেল নাইট বাহিনী। এই ম্য়াচে নাইটদের জয়ের অন্যতম দুই কারিগর, নাইট পরিবারের অত্যন্ত পরিচিত দুই নাম আন্দ্রে রাসেল (Andre Russell) এবং সুনীল নারাইন (Sunil Narine)।
এমআই এমিরিটেস, ডেজার্ট ভাইপার্স এবং দুবাই ক্যাপিটালস আগেই প্লে-অফে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে সমান, ছয় পয়েন্টে ছিল নাইট রাইডার্স এবং জায়ান্টসরা। এই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি হলেও নাইটদের কপালে দুঃখ ছিল। নেট রান রেটে তখন গাল্ফ জায়ান্টসই প্লে-অফে পৌঁছত। তাই আজকের ম্যাচট জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন দলের জন্য মরণ-বাঁচন ম্যাচই ছিল। সেই ম্যাচে গাল্ফ জায়ান্টসের বিরুদ্ধে এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে নাইটরা।
ফিল সল্ট এবং মাইকেল পিপার শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়েই নাইট বাহিনী ৫৬ রান তুলে ফেলে। পিপার মাত্র ৩১ বলে ৫০ রানের গণ্ডি পার করেন। সল্ট হাফসেঞ্চুরি করতে নেন ৪৪ বলে। সল্ট ও পিপার জুটিতে নাইটদের ইনিংস তড়তড়িয়ে এগোচ্ছিল। তবে পিপার ৮৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। নাইট রাইডার্স আর কোনও উইকেট না হারালেও ১৭৯ রানের বেশ তুলতে পারেনি। লিভিংস্টোন ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন, সল্টের সংগ্রহ অপরাজিত ৭২ রান।
জবাবে নাইট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে রহমানুল্লা গুরবাজকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে দলের হয়ে শুরুটা দারুণভাবে করেন। আরেক ওপেনার জেসম ভিনসকেও হোল্ডারই ১৯ রানে আউট করেন। এটি ২০২৫ সালে হোল্ডারের ৯৭তম টি-টোয়েন্টি উইকেট। রশিদ খানকে পিছনে ফেলে এক বছরে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার মালিক হয়ে যান হোল্ডার।
৫০ রানের গণ্ডি পার করার আগেই জায়ান্টসরা তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে। বল হাতে এদিন শুরুটা যেখানে হোল্ডার করেছিলেন, শেষটা করেন তাঁর দুই ক্যারিবিয়ান সতীর্থ রাসেল ও নারাইন। দুইজনেই অনবদ্য বোলিং করেন। রাসেল মাত্র দুই ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৩ রানে তিন উইকেট নেন। নারাইনের সংগ্রহ চার ওভারে ১৪ রানের বিনিময়ে দুই উইকেট। এই দুইয়ের সুবাদেই জায়ান্টসরা ১৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি। মঈন আলির লড়াকু ৭৯ রানের ইনিংস জলেই গেল। ৩২ রানে ম্য়াচ জিতে আইএল টি-টোয়েন্টির এলিমিনেটরে দুবাই ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে নাইট বাহিনী।