মেলবাের্ন: সকালটা দেখে বোঝা যায় সারাটা দিন কেমন যাবে। ঠিক তেমনটাই হল। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১২৫ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে ম্য়াচ জেতাটা কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করার মতই ছিল। কিন্তু তা হল না। বৃহস্পতিবার ভারতের মেয়েরা অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৮ রান তাড়া করে ম্য়াচ জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। এদিন ১২৫ রানের ভেতরে মার্শ বাহিনীকে আটকে দিলে সেটিও কম বড় খবর হত না। কিন্তু ভারতের বোলাররা প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট ফেলতে পারলেও ম্য়াচ জেতাতে পারলেন না দলকে।
১২৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা কুড়ির ফর্ম্য়াটে এখন জলভাত প্রায়। তাও আবার মার্শ, হেড, স্টোইনিস যে দলে আছে, তাদের জন্য। ওপেনিংয়ে নেমে মার্শ ও হেড মিলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলা শুরু করেন। দু জনে মিলে ওপেনিং পার্টনারশিপে ৫১ রান বোর্ডে তুলে নেয়। জয়ের ভিত সেখানেই গড়ে ফেলে অজি শিবির। এরপর হেড ২৮ রানে ফিরলেও মার্শকে আটকানো যায়নি। ব্যক্তিগত ৪৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে ফিরিয়ে দেন কুলদীপ যাদব। তবে ততক্ষণে ম্য়াচ হাত থেকে প্রায় বেরিয়ে গিয়েছে। বরুণ চক্রবর্তী ছাড়া বাকি কোনও বোলারকেই রেয়াত করেনি এদিন অজি ব্যাটাররা। জশ ইংলিশ, মিচেল ওয়েন, টিম ডেভিডরা রান না পেলেও তাতে ভারতের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৩.২ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় অজি শিবির।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। আগের ম্য়াচেও টস জিতেছিলেন মার্শই। এদিনও তিনিই জিতলেন। ইনিংসের প্রথম বলেই লেগবিফোরের আবেদন করেছিলেন জশ হ্যাজেলউড। গিল অল্পের জন্য বেঁচে যান ডি আর এস নিয়ে। কিন্তু সেই সুযোগের পারেননি। মাত্র ৫ রান করে সেই হ্যাজেলউডের বলেই ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন। এরপর শুধুই আসা যাওয়ার পালা ছিল ভারতীয় শিবিরে। পরপর উইকেট হারাতে থাকে তাঁরা। তিন নম্বরে নেমেছিলেন সঞ্জু স্য়ামসন। কিন্তু তিনিও রান পেলেন না। আগের ম্য়াচে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু এদিন ফের ব্যর্থ হলেন সূর্যকুমার যাদব। ভারতের টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটের ক্যাপ্টেনের ব্যাটে গত ১৫ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে কোনও অর্ধশতরানের ইনিংস খেলতে পারেননি সূর্য। পঞ্চাশ রান বোর্ডে তোলার আগেই পাঁচটি উইকেট পড়ে যায় ভারতের। সেখান থেকে হর্ষিত ও অভিষেক জুটি ভারতের রান একশোর গণ্ডি পার করিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১২৫ রানের বেশি বোর্ডে তুলতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া।