ঢাকা: ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দল পদ্মপারে বাংলাদেশের বিপক্ষে (BAN vs WI) আপাতত ওয়ান ডে সিরিজ় খেলতে ব্যস্ত। সেই সিরিজ়ের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ঢাকা, মিরপুরে দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। এই ম্যাচেই কিন্তু শাই হোপের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবিয়ান দল (West Indies Cricket Team) ইতিহাস গড়ে ফেলল।
ভারতীয় উপমহাদেশে ম্যাচ মানেই স্পিনের আধিক্য, স্পিনসহায়ক পিচ। তবে ওয়ান ডেতে ৫০ ওভারের ৫০ ওভারই স্পিনাররা বল করলেন! এমন ঘটনা এর আগে বাংলাদেশ কেন, বিশ্বক্রিকেটে কখনও হয়নি। তবে এমনই ঘটনা ঘটল মঙ্গলবার। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় পাঁচ বোলারই ব্যবহার করে এবং পাঁচজনই স্পিনার।
সম্প্রতি বাংলাদেশের মিরপুরে পিচ নিয়ে না না বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কখনও স্পিনারদের মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া তো কখনও ব্যাটিং অযোগ্য হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। মঙ্গলবারের মিরপুরের পিচও যে স্পিনসহায়ক হবে, সেই বিষয়ে সকলেই কার্যত নিশ্চিত ছিলেন। সেই কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় নিজেদের একাদশে কোনও বিশেষজ্ঞ ফাস্ট বোলারই রাখেনি। বিকল্প বলতে ছিলেন কেবল অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস। তিনি অবশ্য় এই ম্যাচে এক ওভারও বল করেননি।
বাংলাদেশ এদিন নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটের বিনিময়ে বোর্ডে ২১৩ রান তোলে। কোনও বাংলাদেশি ব্যাটারই এই ম্যাচে অর্ধশতরানের গণ্ডি পার করতে পারেননি। ওপেনার সৌম্য সরকার বাদে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের কোনও ব্যাটারই তেমন রান পাননি। সৌম্য ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। শেষের দিকে, নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে রিশাদ হোসেন ১৪ বলে বিধ্বংসী ৩৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসের দৌলতেই বাংলাদেশ কোনওক্রমে দু'শো রানের গণ্ডি পার করে। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে বাঁ-হাতি স্পিনার গুদাকেশ মোতি সর্বাধিক তিনটি উইকেট নেন। তবে তিনি ১০ ওভার ৬৫ রানও খরচ করেন। আকিল হোসেন এবং অ্যালিক অ্যাথানাজ় দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় ৩৪ ওভারে ১৩৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে বিরাট বিপাকে ক্যারিবিয়ান দল। দলের হয়ে ১৮ রানে ক্রিজে উপস্থিত রয়েছেন অধিনায়ক হোপ।