কলম্বো: তৃতীয় দিনের শেষে একেবারে খাদের কিনারায় ছিল দল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ইনিংসে (SL vs BAN) হারের খাড়া ঝুলছিল বাংলাদেশের সামনে। শেষ ভরসা ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু তিনি পারলেন না। ছয় উইকেটে ১১৫ রানে দিন শুরু করে দিনে আর মাত্র ১৮ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। শেষমেশ ১৩৩ রানেই অল আউট হয়ে যায় ওপার বাংলার দল। চতুর্থ দিনের শুরুতেই ইনিংস ও ৭৮ রানে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলেই ১-০ সিরিজ়ও জেতে দ্বীপরাষ্ট্র।

চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর ওপার বাংলার দলের শেষ চার উইকেট নিতে দ্বীপরাষ্ট্রের মাত্র ২৮ মিনিট সময় লাগে। লঙ্কানদের হয়ে স্পিনার প্রভাত জয়সূর্যই দ্বিতীয় ইনিংসে সেরা বোলিংটা করেন। তিনি ৫৬ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট নেন। এই নিয়ে টেস্ট ১২ নম্বরবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন বাঁ-হাতি লঙ্কান স্পিনার। বাংলাদেশের হয়ে সবথেকে বড় ভরসা ছিলেন লিটন দাস। তিনি জয়সূর্যর বিরুদ্ধে মাত্র তিন বল ক্রিজে টেকেন। ডিফেন্ড করতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন। বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা তেমন কেউই দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি। শেষমেশ যা হওয়ার তাই হল। বাংলাদেশকে লজ্জাজনক পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হল।

 

লঙ্কানদের বিরুদ্ধে হারের পরেই বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও (Najmul Hossain Shanto) বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। তিনি বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন। বছরের শুরুতেই শান্ত টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়েন। তবে তিনি ওয়ান ডে ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ বোর্ড তাঁকে বরখাস্ত করে মেহেদি হাসান মিরাজকে দলের ওয়ান ডে অধিনায়ক নির্বাচিত করেন। এরপরে টেস্টের অধিনায়কত্বও ছাড়েন তিনি।

যদিও শান্ত কিন্তু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এটা কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। তাঁকে ওয়ান ডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনওভাবেই টেস্টে এই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত যুক্ত নয়। তাঁর দাবি দলের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কিছুদিন আগেই তিনি ক্রিকেট অপারেশনস কমিটিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন।