ঢাকা: বয়স ৩৭ পেরিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে দলে সুযোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ফর্মও খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একেবারেই পারফর্ম করতে পারেননি। এরপরই এবার কেরিয়ারের চরম সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার সকালের পর থেকে স্টিভ স্মিথের ওয়ান ডে ফর্ম্যাট থেকে অবসর সবাইকে চমকে দিয়েছিল। বিকেলের পর সেই একই পথে চললেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বহু যুদ্ধের নায়ক মুশফিকুর। 

ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হিসেবে ওয়ান ডে কেরিয়ারে ইতি টানলেন মুশফিক। ২৭৪ ম্যাচ খেলতে নেমে ৭৭৯৫ রান করেছেন ৩৬.৪২ গড়ে। ঝুলিতে আছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৯টি অর্ধশতরান। বিশ্বের পাঁচ উইকেটকিপারের মধ্যে মুশফিক একজন, যাঁর ঝুলিতে ২৫০ ম্যাচ রয়েছে। 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মিডল অর্ডারে ভরসা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল মুশফিকের ওপর। কিন্তু তিনি সেই কাজে ব্যর্থ হন। ভারতের বিরুদ্ধে খাতাই খুলতে পারেননি। কিউয়িদের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রান করেন। গত বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষবার ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে অর্ধশতরান করেছিলেন। বয়স ও ফিটনেস বারবার ইস্যু হচ্ছিল। চোট আঘাতে মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন অনেকটা সময়। 

২০০৬ সালে ওয়ান ডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মুশফিকুর বলেন, ''আজ ওয়ান ডে ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের সাফল্য হয়তো সীমিত। কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, যখনই দেশের হয়ে খেলতে নেমেছি, ১০০ শতাংশের বেশি সততা এবং অধ্যবসায় নিয়ে খেলেছি। বিগত কয়েক সপ্তাহ আমার কাছে ভীষণ চ‍্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু এবার আমার মনে হয়েছে এটাই আমার ভবিতব‍্য। আমার পরিবার, বন্ধু এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ। ওঁদের জন্যই গত ১৯ বছর ধরে খেলছি।''

গতকাল দিনের শুরুতেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন স্টিভ স্মিথের আচমকা অবসর নেওয়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। শেষ ম্য়াচে ভারতের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে অর্ধশতরান করেছিলেন। কিন্তু তবুও ১৭০ ম্য়াচের কেরিয়ার সমাপ্তি ঘোষণা করে দেন স্মিথ। ২০১৫ ও ২০২৩ দুবার ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছেন দেশের জার্সিতে। প্রচুর ম্য়াচে নেতৃত্বভারও সামলেছেন। বিশ্ব ক্রিকেটের যে ফ্যাব ফোর, তার মধ্যে অন্য়তম উল্লেখযোগ্য নাম স্মিথ। তবে অজি তারকা জানিয়েছেন, ওয়ান ডে থেকে সরে দাঁড়লেও টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।