দুবাই: ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর, দুবাইয়ে রবিবাসরীয় সেই রাতটা বরুণ চক্রবর্তীর (Varun Chakravarthy) কাছে খানিকটা দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে ফের এক রবিবারের রাতে আবারও দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারতীয় জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন বরুণ। তবে সাড়ে তিন বছর পর ছবিটা উল্টো। এক যেন রূপকথার চিত্রনাট্য। যে মাঠ থেকে চরম লাঞ্ছিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ভারতীয় তারকা স্পিনারকে সেই মাঠেই ২ মার্চ তিনি রাজকীয় অভ্যর্থনা পেলেন।
নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে (IND vs NZ) এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (Champions Trophy 2025) শেষ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচেই নিজের স্পিনভেল্কিতে মাঠে উপস্থিত সকলকে মোহিত করলেন বরুণ। আর তাঁর মিস্ট্রি স্পিনে লেখা হল ভারতীয় দলের জয়গাথা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিশ্বকাপে যে বরুণ চার ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান খরচ করেছিলেন। সেই বরুণই কিউয়িদের বিরুদ্ধে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪২ রানে তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট। গড়লেন রেকর্ড, পেলেন বীরের সম্মান, হলেন ম্যাচ সেরা।
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বরুণ কিন্তু কোনও রাখঢাক করেননি। টিম ইন্ডিয়ার এই রাতের ম্যাচ উইনার সোজাসোপ্টা জানিয়ে দেন প্রথম প্রথম তিনি নার্ভাসই ছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে কি সেই ২৪ অক্টোবরের রাত উঁকি মারছিল? বরুণ জানান, 'সত্যি বলতে আমি শুরুতে খুব নার্ভাস ছিলাম। আমি তো ভারতের হয়ে ওয়ান ডেতে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। ম্যাচ যত গড়ায়, প্রতিটি ওভারের সঙ্গে সঙ্গে আমার স্নায়ুর চাপটাও কমে। বিরাট, হার্দিক, রোহিত, শ্রেয়স আমার সঙ্গে কথা বলে আমায় যতটা সম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন।'
বরুণ জানান তিনি গতকাল রাতেই জানতে পারেন যে আজ তাঁকে মাঠে নামতে হবে। আর মাঠে নেমেই সাফল্য। অনেকেই মনে করছেন দুবাইয়ের ব্যবহৃত পিচ স্পিনসহায়ক ছিল। ততটা না হলেও, বরুণের মতে পিচ থেকে সাহায্য পাওয়া যাচ্ছিল। 'এটা তো এমন পিচ ছিল না যেখানে বল বনবন ঘুরছিল। তবে হ্যাঁ, সঠিক জায়গায় বল রাখতে পারলে পিচ থেকে সাহায্য পাওয়া যাচ্ছিল। কুলদীপ, জাড্ডু, অক্ষররা তো বটেই, আমাদের ফাস্ট বোলাররাও যা বল করে, তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। দলগতভাবে ভাল পারফর্ম করেই ম্যাচ জিতেছি আমরা।' বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শ্রেয়সের দাপুটে ইনিংসের পর বরুণের বিক্রম, ৪৪ রানে নিউজ়িল্যান্ডকে হারাল ভারত