সন্দীপ সরকার, কলকাতা: কেউ বলছেন, সিএবি (CAB) প্রশাসন বেআব্রু হয়ে গেল। কারও মতে, এত বড় কেলেঙ্কারি সাম্প্রতিক কালে দেখা যায়নি ময়দানে।
যা হল ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) সিএবি আয়োজিত প্রথম ডিভিশন লিগের এ গ্রুপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল বনাম ভবানীপুর ম্যাচে। বৃষ্টিবিঘ্নিত যে ম্যাচে পাঁচদিনেও ফয়সালা হল না। এমনকী, একটি করে ইনিংসও শেষ হল না। যে কারণে যুগ্মজয়ী ঘোষণা করা হল ইস্টবেঙ্গল ও ভবানীপুর - দুই ক্লাবকেই।
ক্ষোভে ফুঁসছে ভবানীপুর ক্লাব। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে সময় নষ্ট করার অভিযোগ তুলছে ভবানীপুর। লাল-হলুদ শিবির থেকে পাল্টা বলা হচ্ছে যে, যেভাবে ভবানীপুরের ব্যাটার শাকির হাবিব গাঁধী আউট হয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেও ড্রেসিংরুম থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, সেখানেই ম্যাচের স্পিরিটকে হত্যা করা হয়। এরপরেও যে তারা ম্যাচ খেলেছে, এই অনেক।
প্রথমে ব্যাট করে ৬৪৩/৬ তুলেছিল ভবানীপুর। জবাবে বৃহস্পতিবার পাঁচদিনের ম্যাচের শেষদিন ইস্টবেঙ্গলের স্কোর যখন ২৪৩/৮, তখন বৃষ্টিতে ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ আর শুরু করা যায়নি। নিয়ম হচ্ছে, দুই দলের একটি করে ইনিংস শেষ হলে প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে ম্যাচের ফয়সালা হয়। যে দল লিড পায়, তাদেরই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই দলের একটি করে ইনিংসও শেষ না হলে ম্যাচ অমীমাংসিত থেকে যায়। যুগ্মজয়ী হয় দুই দল।
তবে যেভাবে পাঁচদিনের ম্যাচে সময় নষ্ট হয়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় ম্যাচ পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল, পরের দিন প্রথম এক ঘণ্টায় মাত্র ৩ ওভার বল করে ইস্টবেঙ্গল, এবং শেষ দিন যেভাবে দুই দলের কর্মকর্তারা কার্যত হাতাহাতি করলেন, তাতে বাংলা ক্রিকেটের ভাল বিজ্ঞাপন হল না। সিএবি-র সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে যদি এই পরিণতি হয়, তাহলে বাংলার বাকি ক্রিকেটারদের ওপর এর কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রায় হাতের মুঠোয় থাকা ম্য়াচ ড্র হওয়ায় ক্ষিপ্ত ভবানীপুর ক্লাবের অন্যতম কর্তা সৃঞ্জয় বসু। সিএবি-তে দাঁড়িয়ে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন তিনি। সৃঞ্জয় বলেন, 'সিএবি-র ব্যর্থতা এটা। ম্যাচ পরিচালনা করতে পারল না। স্থানীয় ক্রিকেটে যা চলছে, তাতে টিকিট চাহিদার উন্নতি হতে পারে, বাংলার ক্রিকেটের উন্নতি হচ্ছে না।' যোগ করেন, 'একটা দল পাঁচ ঘণ্টা মাঠে নামেনি, সিএবি প্রেসিডেন্ট ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মাঠে আসতে হচ্ছে, অ্যাসোসিয়েশন এভাবে চললে বাংলার ক্রিকেটের এই অবস্থাই হবে। ইস্টবেঙ্গলের জন্য নিয়ম পাল্টানো হয়েছে। শাকির হাবিব গাঁধী ডাবল সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচের সেরা হল না।'
ইস্টবেঙ্গলের কর্তা সদানন্দ মুখোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, 'ভবানীপুর মারামারি করেছে, অশান্তি করেছে। আমরা তার প্রত্যুত্তর দিয়েছি শুধু।'
সিএবি-র অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হলেও লাভ হবে না, তোপ সৃঞ্জয়ের। বলছেন, 'টাউন ক্লাব ও মহমেডানের ম্যাচে অশান্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কোনও লাভ হয়নি।'