প্রয়াগরাজ: মৃত্যুপুরী মহাকুম্ভ। প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুমিছিল! মৌনী অমাবস্যার স্নানের জন্য হুড়োহুড়ি, ৩০ জনের মৃত্যু, আহত ৯০। টেন্টে আগুনের পর এবার মহাবিপর্যয়, মহাকুম্ভে পদপিষ্ট! আর এই ঘটনায় এবার সোশ্য়াল মিডিয়ায় মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিংহ। প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন বিশ্বজয়ী ভারতীয় স্পিনার।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় হরভজন বলন, ''দুর্ভাগ্যজনক ও এত ভক্তের মৃত্যু ও আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে গভীরভাবে মর্মাহত। আমার আন্তরিক চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা সেই পরিবারের সঙ্গে যাঁরা তাদের কাছের এবং প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এছাড়া আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হচ্ছে যাতে কেবল এই ধরনের ঘটনা রোধ করা যায় না, ভক্তরা কোনও অসুবিধার সম্মুখিন না হয়। মহাকুম্ভ মেলার মতো একটি বিশাল সমাবেশের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির দাবি করা হয়। এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে।'' হরভজন সিংহ মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বাধীন ২০১১ ওয়ান ডে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন হরভজন।

মহাকুম্ভে মহাবিপর্যয়, সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হল এবার। মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের। 'ঘটনার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছে যোগী সরকার?', স্টেটাস রিপোর্ট তলব করুক আদালত, আর্জি মামলাকারীর।  ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদপিষ্টকাণ্ডে কারা দায়ী, চিহ্নিত করে নেওয়া হবে ব্যবস্থা জানিয়েছে যোগী প্রশাসন। 

প্রস্তুতি ছিল বহুদিনের। নজরে ছিল নিরাপত্তা। কিন্তু তার পরেও এড়ানো গেল না বিপর্যয়! শাহি স্নানের পুণ্য লাভ করতে গিয়ে মর্গের সামনে হত্য়ে দিয়ে পড়ে থাকা! পুণ্যের অমৃতকুম্ভ ভরতে গিয়ে এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে ফেরা! হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষকে খুঁজতে হাসপাতাল ও মর্গের সামনে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। এদিকে, পুণ্যস্নানে গিয়ে প্রাণ গেল বিজয়গড়ের বাসিন্দার। সোমবার ছেলে-মেয়ে-বোনের সঙ্গে প্রয়াগরাজ গেছিলেন বাসন্তী পোদ্দার। মৌনী অমাবস্যার স্নানের সময় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু বিজয়গড়ের প্রৌঢ়ার। কুম্ভমেলায় পুণ্যস্নানে গিয়ে পদপিষ্ট হয়েও বরাত জোরে প্রাণে বেঁচেছেন শুক্লা দেবনাথ। আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে একাই গেছিলেন পুণ্য অর্জনে। মহিলার অভিযোগ, পদপিষ্ট হওয়ার পর কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। পুলিশের দেখা মেলেনি। গাছের নীচে রাত কেটেছে। জল-খাবার কিছুই মেলেনি। ফিরবেন কী করে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।