নবি মুম্বই: মাঝে পাক্কা ৫০ বছরের ব্যবধান। ১৯৭৬ সালের পর ২০২৫। সেদিনও ছিল ২ নভেম্বর। এদিনও ২ নভেম্বর। শান্তা রঙ্গস্বামী-ডায়ানা এডুলজিরা যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করলেন রিচা-স্মৃতিরা। ১৯৭৬ সালের ২ নভেম্বর, প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মাঠ ছেড়েছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। আর ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। আর যার হাত ধরে জিতলেন তিনি হরমনপ্রীত কৌর। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে তাঁর হাতে উঠল বিশ্বকাপ ট্রফি। কপিল দেব, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, রোহিত শর্মার পর চতুর্থ ভারতীয় ও প্রথম মহিলা ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে বিশ্বখেতাব জয়ের নজির গড়লেন হরমন। 

Continues below advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, মহিলাদের ক্রিকেট সবচেয়ে বয়স্ক ক্যাপ্টেন হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার নজির গড়লেন হরমনপ্রীত। এছাড়াও আইসিসি টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বে সর্বাধিক রান করা ক্রিকেটার হিসেবে টেক্কা দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বেলিন্ডা ক্লার্ককে। তিনিই এতদিন শীর্ষে ছিলেন। আইসিসি নকআউট ম্যাচে হরমনপ্রীতের মোট রান এখন ৩৩১, গড় ১১০.৩৩। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও দু’টি হাফ-সেঞ্চুরি। এই তালিকায় এতদিন শীর্ষে ছিলেন বেলিন্ডা ক্লার্ক, যাঁর রান ছিল ৩৩০। চারটি হাফ-সেঞ্চুরি ছিল তাঁর ঝুলিতে, সর্বোচ্চ স্কোর ৯১।

বিশ্বকাপ জেতার পর নিজের বাবা, মায়ের সঙ্গে ট্রফি ভাগ করে নিলেন হরমনপ্রীত। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনও ক্যাপ্টেন যা করতে পারেননি, সেই কাজটাই করে ফেলেছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলছেন, ''প্রথমেই নবি মুম্বইয়ে এত দর্শককে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। এটা অসাধারণ একটা মুহূর্তয। আমাদের ওঠাপড়ায় প্রতি মুহূর্তে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা সবার প্রতি। এই জয় আমাদের নির্বাচক, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও গোটা দেশের। শেষ ম্য়াচের পরই আমরা আলোচনা করছিলাম যে ভাল কিছু হতে পারে। দলের প্রত্যেক কৃতিত্ব প্রাপ্য। সবাই দিন-রাত এক করে খেটেছে এই দিনটার জন্য।''

Continues below advertisement

তিনি আরও বলছেন, ''শেফালি যেভাবে ব্যাটিং করেছিল আজ। আমার মন বলছিল যে ওকে একটা ওভার দিয়ে দেখা যেতেই পার। সেই মতই ওর হাতে বল তুলে দিয়েছিলাম। বাকি কাজটা ও করে দিয়েছে। শেফালি সবসময় বল হাতে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকে। আমাকে আগেও বলেছে যে প্রয়োজনে ১০ ওভারও করতে রাজি ও। আজ দায়িত্ব পেয়ে তা নিঁখুতভাবে পালন করেছে।''