দুবাই: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন। ব্যাস, গৌতম গম্ভীর চেয়েছিলেন তাঁকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডেও খেলাতে। তবুও সম্ভাব্য দলে প্রথমে সুযোগ পাননি। যশস্বী জয়সওয়ালকে বাদ দেওয়া হয়েছিল শেষ মুহূর্তে। আর বুমরার চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া কোথায় একটা বরুণ চক্রবর্তীর জন্য সুযোগ চলে আসে। কিউয়িদের বিরুদ্ধে লিগ ম্য়াচে পাঁচ উইকেট নেওয়াই হয়ত কেকেআর স্পিনারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নতুন করে নিজেকে মেলে ধরার রাস্তা তৈরি করে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা তিনটি ম্য়াচ খেলে শেষ পর্যন্ত ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য এখন বরুণ। খেলার শেষে স্বপ্নপূরণের আনন্দে চোখে জল বরুণের।
এদিন ম্য়াচে নিজের ১০ ওভারের স্পেলে ৪৫ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছিলেন বরুণ। খেলার শেষে তিনি বলছেন, ''শেষ মুহূর্তে দলে ঢুকেছিলাম এই টুর্নামেন্টে। এতটা আশা সেদিন করিনি। তবে আজ একেবারে অন্য অনুভূতি হচ্ছে। স্বপ্নপূরণের রাত আমাদের জন্য। এই ধারাটাই এবার বজায় রাখতে হবে আমাদের।''
ম্য়াচে ২৫২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে একটা সময় গিল ও বিরাটের উইকেট পরপর হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। ম্য়াচ শেষে কেকেআরের প্রাক্তন আইপিএলজয়ী অধিনায়ক বলছেন, ''দুর্দান্ত অনুভূতি আমার জন্য। এটা আমার প্রথম আইসিসি ট্রফি। ড্রেসিংরুমের প্রত্যেককে দেখে অভিভূত আমি। চাপের মুখে খেলা সবসময় পছন্দ করি আমি। বড় ইনিংস খেলতে পারিনি, তবে দলের জয়ে আমার ইনিংস কাজে এসেছে, এতেই আমি বেজায় খুশি। কানের ইয়ার রিংটি আমার জন্য বড্ড লাকি।''
২০০০ সালে যে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হারাতে হয়েছিল সৌরভের টিম ইন্ডিয়াকে, সেই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই শাপমোচন হল। নিউজ়িল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে নিল ভারত। রেকর্ড তৃতীয়বারের জন্য। ভেঙে দিল অস্ট্রেলিয়ার নজির। ২ বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন অজিরা। ভারত জিতল তিনবার।
এদিন প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে ২৫১ রান তুলে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসন ও রাচিন রবীন্দ্র এদিন বড় রান করতে পারেননি। তবে ডারিল মিচেল ৬৩ ও ব্রেসওয়েল ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোর আড়াইশোর গণ্ডি পার করিয়ে দেন। পরে তা ৪ উইকেট হারিয়ে থাকতেই জিতে যায় ভারত।