লাহৌর: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (ICC Champions Trophy 2025) দৌড়ে টিকে থাকতে হলে দুই দলকেই জিততে হত। ইংল্যান্ড নিঃসন্দেহেই ফেভারিট হিসাবে মাঠে নেমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময় এটুকু প্রমাণ করে দিয়েছে যে আফগানিস্তান হাল ছাড়ার পাত্র নয়। অন্তত সাম্প্রতিক অতীতের দুই আইসিসি ইভেন্ট তেমনটাই প্রমাণ করেছে। বুধবার রশিদ খানরা আবার প্রমাণ করলেন, তাঁরা ক্রমশই নিজেদের উন্নতি করছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক রোমহর্ষক ম্যাচে আট রানে জয় পেল আফগানরা (AFG vs ENG)। 

তবে এই ম্যাচে রশিদ নন, আফগানদের জয়ের দুই নায়ক হলেন তরুণ ইব্রাহিম জাদরান (Ibrahim Zadran) ও আজমাতুল্লা ওমারজ়াই (Azmatullah Omarzai)। জাদরানের ঐতিহাসিক ১৭৭ রানের ইনিংসের পর গত বর্ষের সেরা ওয়ান ডে ক্রিকেটার ওমারজ়াইয়ের পাঁচ উইকেটে দুরন্ত জয় পেল আফগানিস্তান। তাঁদের এই জয়ে আফগানিস্তানের পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা বজায় রইল। তবে ইংল্যান্ডের শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেল।   

এদিন সাত উইকেটের বিনিময়ে আফগানিস্তানের ৩২৫ রানই কোনও আইসিসি ইভেন্টে তাঁদের সর্বোচ্চ দলগত রান। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আফগানিস্তান। শুরুটা ভাল একেবারেই হয়নি। নতুন বল হাতে জোফ্রা আর্চারের আগুনে স্পেলে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল আফগানিস্তান। ৩৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে একেবারে ধুঁকছিল আফগানিস্তান। এই সময়েই অধিনায়ক হাশমাতুল্লা শাহিদির সঙ্গে মিলে শতরানের পার্টনারশিপে জাদরান ইনিংসকে স্থিরতা প্রদান করেন।

এরপরে ওমারজ়াই এবং শেষের দিকে বর্ষীয়াণ মহম্মদ নবির আগ্রাসী ইনিংসে আফগানিস্তান ইনিংস তড়তড়িয়ে এগিয়ে যায়। সাপোর্টও পান জাদরান। দেখতে দেখতেই ৩২৫ রানের বেশ চ্যালেঞ্জিং টোটাল বোর্ডে তুলে ফেলেন জাদরানরা। আফগান ওপেনার ১৪৬ বলে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে এটিই সর্বকালের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

রানের লক্ষ্য বড় হলেও লাহৌরের পাটা পিচে এই রান তাড়া করা একেবারে যে অসম্ভব নয়, সেকথা ইংল্যান্ড ব্যাটাররা ভালভাবেই জানতেন। তবে বড় রান তাড়া করতে শুরুটা ভাল করতে হত। তেমনটা করতে ব্যর্থ হয় বাটলারের দল। ফিল সল্টের হতাশাজনক টুর্নামেন্ট অব্যাহত থাকে। মাত্র ১২ রানে ফেরেন তিনি। জেইমি স্মিথ আউট হলে ৩০ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো বেন ডাকেটও ৩৮ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে রুখে দাঁড়ান জো রুট। ২০১৯ সালের পর নিজের প্রথম ওয়ান ডে শতরান হাঁকান রুট।

জেইমি ওভারটন ও জো রুট ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে এগিয়েই নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এই সময়েই দলের প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন ওমারজ়াই। ১২০ রানে সেট রুটকে সাজঘরে ফেরান। ওভারটন এবং জোফ্রা আর্চারের ব্যাটিং দৌরাত্ম্য ইংল্যান্ডকে জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। তবে শেষমেশ স্নায়ুর লড়াইয়ে আর্চাররা পরাজিত হন। জয়ের দোরগোড়ায় এসেও ইংল্যান্ড আট রানে পরাজিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছনোর আশাও শেষ হয়ে যায়। কেরিয়ারে প্রথমবার ওয়ান ডেতে পাঁচ উইকেট নেন ওমারজ়াই।

আরও পড়ুন: দুবাইয়ে হাঁটতে বেরিয়েই বিরাট বিপাকে পড়লেন রোহিত, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাঝেই এ কী কাণ্ড!