লাহৌর: টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান করেছিল ইংল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (ICC Champions Trophy) ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরও এসেছিল ওপেনার বেন ডাকেটের (Ben Duckett) ব্যাট থেকে। তাও ম্যাচ জয়ের জন্য তা পর্যাপ্ত হল না। ৩৫১ রান তাড়া করতে নেমে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া (AUS vs ENG)। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তো বটেই, এই ফর্ম্যাটে আইসিসি ইভেন্টেও এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

একগুচ্ছ তারকার চোটে অজ়িরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কেমন পারফর্ম করবেন, সেই নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রমাণ করে দিল কেন তাঁরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। অজ়িদের হয়ে এই জয়ের নায়ক জশ ইংলিস (Josh Inglis)। নিজের কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা ইনিংসটি খেললেন তিনি। যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরি এল তাঁর ব্য়াট থেকে। ১২০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন ইংলিস। যোগ্য ব্যাটার হিসাবে ছক্কা মেরে তিনিই ম্যাচ শেষ করেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন অ্যালেক্স ক্যারি (Alex Carey)। দুইজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ১৪৬ রান যোগ করেন। ক্যারির সংগ্রহ ৬৯। ম্যাট শর্টের ব্যাট থেকেও ৬৩ রানের ইনিংস আসে।

এদিন টস জিতে ম্যাচে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজ়ি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে প্রথম ছয় ওভারেই দুই সাফল্য এনে দেন বেন জোয়ারস্য়ুইস। ফিল সল্ট এবং জেইমি স্মিথকে ফেরান তিনি। দুইটি ক্যাচই কিপিং গ্লাভস ছাড়া কভারে দাঁড়ানো ক্যারি তালুবন্দি করেন। সল্টের ক্যাচ তো কার্যত বাজপাখির মতো ছো মেরে ধরেন তিনি। তবে অপর ওপেনার বেন ডাকেট শুরু থেকেই স্বপ্নের ফর্মে ছিলেন। জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ১৫৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। রুট ৬৮ রানে আউট হওয়ার সময় ইংল্যান্ড দু'শো রানের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।

এরপর ইংল্যান্ডের কেউই বড় রান না পেলেও ডাকেট একটু একটু করে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। শেষমেশ মার্নাস লাবুশেন ১৬৫ রানে তাঁর ঐতিহাসিক ইনিংস থামান। ডাকেটের ১৬৫ রানই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। শেষের দিকে জোফ্রা আর্চারের ২১ রানের আগ্রাসী ইনিংস ইংল্যান্ডকে ৩৫০ রানের গণ্ডি পার করায়। ডোয়ারস্যুইসই সর্বাধিক তিনটি উইকেট নেন।

বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দুই অজ়ি তারকা ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথ পরপর ওভারে সাজঘরে ফেরেন। ২৭ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাট শর্ট ও লাবুশেন তৃতীয় উইকেটে ৯৫ রান যোগ করে অজ়ি ইনিংসকে স্থায়িত্ব দেন। লাবুশেন ৪৭ রানে আউট হয়ে অর্ধশতরান হাতছাড়া করলেও শর্ট তা করেননি। তাঁর ব্যাট তেকে আসে ৬৩ রানের ইনিংস। তবে ফের একবার অল্প রানের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

এই সময়ই দুই কিপার-ব্যাটার ক্যারি ও ইংলিস স্বপ্নের পার্টনারশিপ গড়েন। স্পিন, পেস, তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুই কার্যকর হয়নি। দুইজনের ১৫৬ রানের পার্টনারশিপ অজ়িদের জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে। ক্যারি ৬৯ রানে ফিরলেও, ইংলিস থামেননি। কভার ড্রাইভ, স্যুইপ থেকে রিভার্স স্কুপ, তাঁর ইনিংসে সবটাই ছিল। ফিনিশং টাচটা দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫ বলে অপরাজিত ৩২ রানের তাঁর ইনিংস অজ়িদের হেসেখেলে জয় সুনিশ্চিত করে দেয়।

আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথে ইতিহাস কোন দলের পক্ষে? চ্যাম্পি্য়ন্স ট্রফির পরিসংখ্যানই বা কী বলছে?