সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সকালেই বড় ঘোষণা করে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। ইডেনে টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু হতে তখনও আধঘণ্টা বাকি। সকাল ৯টা নাগাদ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হল, এই টেস্টে আর খেলতে পারবেন না শুভমন গিল (Shubman Gill)। ঘাড়ের ব্যথা নিয়ে যিনি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ম্যাচে যে কারণে বেকায়দায় পড়তে হল ভারতকে। দুই ইনিংসেই ৯টি করে উইকেট হারিয়েও অল আউট হতে হল। ১৮ উইকেট তুলেও ম্যাচ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে শুভমনকে নিয়ে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় দিন সাতসকালে শুভমনের টেস্ট ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর বিবৃতি দিয়ে জানায় বোর্ড, তা নিয়ে খুশি নন প্রাক্তনীরা। বলাবলি হচ্ছে, ঘাড়ে ব্যথা নিয়েও যদি ব্যাট করতে নামতেন ভারত অধিনায়ক, দলের মনোবল চাঙ্গা হতো। রান না পেলেও কিছুটা লড়াই তো করতেন!
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন রবি শাস্ত্রী। ধারাভাষ্য দেওয়ার ফাঁকেই যিনি বললেন, 'গিলের ব্য়াট করতে নামা উচিত ছিল। ও নামলে ভারত আরও একটু লড়াই করতে পারত।' একই মত সুনীল গাওস্করেরও। বলছিলেন, 'গিলকে নিয়ে এসে ব্যাট করতে নামাতে পারত ভারত। তাতে দল উপকার পেত।'
ক্রিকেট মাঠে বীরত্বের ছবি খুব একটা কম নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনিল কুম্বলের ভাঙা চোয়াল নিয়ে ১৪ ওভার বোলিং, ২০১৯ বিশ্বকাপে ভাঙা আঙুল নিয়ে শিখর ধবনের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি, হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে গেলেও সিডনি টেস্টে হনুমা বিহারির ব্যাটিং ক্রিকেটের রূপকথায় জায়গা করে নিয়েছে।
আর ভারতের সদ্য ইংল্যান্ড সফরে তো দুই বীরগাথা রচিত হয়েছিল। ক্রিস ওকসের ভাঙা হাত সোয়েটারের ভেতরে ঢুকিয়ে ব্যাটিং আর ভাঙা গোড়ালি নিয়ে ঋষভ পন্থের ইনিংসকে গোটা বিশ্ব কুর্নিশ করেছে। সেখানে শুভমন কি প্রয়োজনে নেক কলার পরেও মাঠে নামতে পারতে না? তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না বলে শোনা গেল। কিন্তু অনেকের মতে, শুভমন যদি ক্রিজে গিয়ে গোটা দশেক বল দাঁড়িয়েও থাকতেন, অন্য দিকের ব্যাটার আক্রমণাত্মক শট খেলার সুযোগ পেতেন। ভারতের অল আউট হতে আরও সময় লাগত।
রবিবার সকালেই শুভমনকে ম্যাচের বাইরে ঘোষণা করার পরেও ভারতীয় দল যদি পরিস্থিতি দেখে তাঁকে শেষ মুহূর্তে নামাতে চাইত, তাহলে কি পারত? কী বলছে নিয়ম? ম্যাচ রেফারি তথা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন অধিনায়ক রিচি রিচার্ডসনকে প্রশ্ন করায় বললেন, 'নিয়মে আটকাত না। ভারতীয় দল সকালে আমাকে ও আম্পায়ারদের গিলের না খেলার কথা জানিয়েছিল। তবে তারপরেও চাইলে ওকে নামানো যেত। এ নিয়ে কোনও কঠোর নিয়ম নেই। ঝুঁকি নিয়ে ভারতীয় দল নামাতে চাইলে ক্রিজে পাঠাতেই পারত।'
ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা আক্ষেপের সুরে বলছেন, গিল নামলেও হয়তো ভারত ম্যাচ হারত। কিন্তু ক্রিকেটের মহাকাব্য লেখা হলে গিলকে নিয়ে একটা অধ্যায় রাখা হতোই।