বার্মিংহাম: সিরিজ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, যতবার ক্রিজে যাবেন, ভুলে যাবেন তিনি অধিনায়ক। বরং ক্রিজে যাবেন ব্যাটার হিসাবে। তাতে চাপমুক্ত হয়ে ব্যাটিং করতে পারবেন। মনঃসংযোগ অটুট থাকবে।

কথাটা যে ভুল বলেননি, প্রত্যেক টেস্টে তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শুভমন গিল (Shubman Gill)। হেডিংলেতে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। তিনি ঢুকে পড়লেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli), টাইগার পটৌডি, সুনীল গাওস্কর (Sunil Gavaskar), সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের (MS Dhoni) তালিকায়। ভারতের ষষ্ঠ টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন শুভমন। মনসুর আলি খান পটৌডি (MAK Pataudi), গাওস্কর, সচিন ও ধোনি টেস্টে অধিনায়ক হিসাবে একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। শুভমন তাঁদের সঙ্গে এক সারিতে প্রবেশ করলেন। তালিকায় সকলের ওপরে কোহলি। কারণ, ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসাবে ৭টি ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে কোহলির।

তবে একটি ব্যাপারে কোহলিকে স্পর্শ করে ফেললেন গিল। ভারতের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসাবে বিদেশে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। ২০১৬ সালে নর্থ সাউন্ডে ২০০ করেছিলেন কোহলি। পাশাপাশি তিলকরত্নে দিলশানের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন গিল। এশিয়ার কোনও দলের অধিনায়ক হিসাবে SENA দেশগুলিতে (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজ়িল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল দিলশানের। ২০১১ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯৩ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন গিল।

 

ম্যাচের প্রথম দিনই সেঞ্চুরি করেছিলেন শুভমন। বুধবার দিনের শেষে ১১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন। তাঁর মনঃসংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারেননি ইংরেজ বোলাররা। 

ভারতীয় ইনিংসের ১২২তম ওভারের প্রথম বল। ১৯৯ রানে ক্রিজে ছিলেন শুভমন। জশ টাং শর্ট বলে পরীক্ষা নিতে গিয়েছিলেন। লেগসাইডে শর্ট আর্ম পুল করে দৌড়তে শুরু করেন শুভমন। ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ হতেই প্রথমে হুঙ্কার দিলেন হেলমেট হাতে। তারপর তাঁর সিগনেচার স্টাইল। কুর্নিশ করে সেলিব্রেশন। তৃতীয় ভারতীয় হিসাবে ইংল্যান্ডে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন গিল। অধিনায়ক হিসাবে যিনি নতুন উদ্যমে হাজির হয়েছেন যেন।